আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও জোরপূর্বক প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অবরুদ্ধ জীবনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী তানজিলুর রহমানসহ তার দুই ভাই রিপন আলী ও জাহিদুল হক তোতা। লিখিত বক্তব্যে তানজিলুর রহমান জানান, দুর্লভপুর মৌজার ৫৬৭ খতিয়ানভুক্ত আরএস ৯৪৩ দাগে মোট ২৭ শতক জমির মধ্যে ৬ কাঠা তাদের পারিবারিক ও ক্রয়কৃত জমি। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে তারা বসবাস করে আসছেন। কিন্তু একই এলাকার মৃত দিদার আলীর ছেলে সেনা সদস্য হাসিবুল ইসলাম দুই ভাই নুরুল ইসলাম ও রকিবুল ইসলামকে নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৪ জুন হাসিবুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা জোরপূর্বক জমি দখল করে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করলে আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। আদালতের স্থগিতাদেশে পুলিশ কাজ বন্ধ করলেও এরপর থেকে তারা পরিবার নিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। এমনকি বাড়ি থেকে বের হতেও প্রাচীর পার হতে হচ্ছে। তানজিলুর রহমান আরও জানান, গত ৩১ আগস্ট তার মা মারা গেলে জানাজা ও দাফনের জন্য লাশ প্রাচীরের উপর দিয়ে নিতে বাধ্য হন তারা। এতে স্বজনদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
ঘটনা মীমাংসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতে সালিশ ডাকলেও বিরোধী পক্ষ উপস্থিত হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি হারদী সেনাক্যাম্প ও চেয়ারম্যানকে জানানো হলে আগামী বুধবার সালিশ বৈঠকের দিন ধার্য হয়। কিন্তু তার আগেই শুক্রবার সকালে হাসিবুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এনে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে পুনরায় প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে ওসমানপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তানজিলুর রহমান অভিযোগ করেন, সেনা সদস্য হাসিবুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে তাদের পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আলমডাঙ্গা অফিস