চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা আমির মো. রুহুল আমিন বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লবের আগে আমাদের পরিচয় ছিল জঙ্গি কিংবা সংখ্যালঘু। আমরা বলতে চাই- সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। আমরা সবাই মানুষ, শুধু ধর্ম আলাদা।’ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দর্শনার কেরুজ আনন্দবাজার দাসপাড়ায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সন্তান-সন্ততি একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে। হত্যা, মিথ্যা, ধর্ষণ, অত্যাচার সব ধর্মেই নিষিদ্ধ। আমরা ন্যায় ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমাদের মূল পরিচয় হওয়া উচিত- আমরা সবাই মানবপ্রেমী।’ রুহুল আমিন বলেন, দুর্নীতি ও উন্নয়ন একসাথে চলতে পারে না। একজন মুসলমান রডের জায়গায় বাঁশ ব্যবহার করতে পারে না, কিংবা বৃদ্ধভাতা আত্মসাৎ করতে পারে না।
তিনি জানান, জুলাই বিপ্লবের পর মানুষের ধারণা পরিবর্তন হয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই পরিবর্তনের ছোঁয়া অনুভব করছেন। আমি আপনাদের উৎসবে সহযোগিতা করেছি, টিন দিয়েছি। দুর্গাপূজার আগে বলেছি টাকার অভাবে যেন উৎসব বন্ধ না হয়। আগামীতেও উৎসব গাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হবে, সেটির প্রতি খেয়াল রাখবেন।
রুহুল আমিন দিনব্যাপী দর্শনা ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পৌরসভা এবং সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সকালে দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে কোম্পানির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর দর্শনা সরকারি কলেজ, মেমনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দর্শনা গার্লস স্কুল, আল হেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ চাঁদপুর স্কুল পরিদর্শন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
তিনি দর্শনা পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথেও সাক্ষাৎ করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন। দুপুরে মহিলা সমাবেশে যোগ দেন এবং পরে রামনগর দাসপাড়া ও অন্যান্য মহল্লায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৬টায় লোকনাথপুর সৌডি রিসোর্টে নির্বাচনী আসন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচনী পরিচালক ও জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান।
দর্শনা অফিস