খালেকুজ্জামান, কুড়ুলগাছি:
দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নে এখন চলছে সোনালি আঁশ পাট ছাড়ানোর মৌসুম। মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কেউ পাট কেটে আনছেন, কেউ পুকুর-খালে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ ব্যস্ত পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে। তবে এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে পাটের ফলন আশানুরূপ হবে না বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে কুড়ুলগাছি ইউনিয়নে ৭৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে। অতিরিক্ত বর্ষণ, জমিতে পানি জমে থাকা এবং সময়মতো পরিচর্যার অভাবে ফলন কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক মাসুম বলেন, ‘ভেবেছিলাম এবার পাটের ভালো ফলন পাবো। কিন্তু পানি বেশি হওয়ার কারণে গাছ অনেক জায়গায় হলদে হয়ে গেছে। তবুও যতটুকু হয়েছে, সেটুকু যেন নষ্ট না হয় সেদিকেই চেষ্টা করছি।’
অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে জাগ দেওয়ার জন্য পানির অভাব না থাকলেও অনেক জায়গায় পানির মান ভালো না হওয়ায় পাটের আঁশের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর পাট আবাদ কিছুটা কম হয়েছে। আবহাওয়ার কারণে ফলনও কম হতে পারে। তবে বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া গেলে কৃষকরা কিছুটা হলেও লাভবান হবেন।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পাটের দাম যদি অনুকূলে থাকে তবে কৃষকেরা লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন। কৃষকদের দাবি, সরকার যেন পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে এবং মাঠপর্যায়ে কারিগরি সহায়তা আরও জোরদার করে। প্রকৃতির প্রতিকূলতার মাঝেও কুড়ুলগাছির কৃষকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সোনালি ফসল ঘরে তোলার।
প্রতিবেদক কুড়ুলগাছি