সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় ডিসি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম

চুয়াডাঙ্গা উন্নয়নে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে
  • আপলোড তারিখঃ ১৮-০৮-২০২৫ ইং
জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় ডিসি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম

চুয়াডাঙ্গা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। সভার শুরুতেই গত সভার কার্যবিবরণী পাঠ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশফাকুর রহমান।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা হচ্ছে জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ একটা ফোরাম, যেখানে আমরা সকল ডিপার্টমেন্ট একসাথে মাসে একবার বসি, সেখানে সকল ডিপার্টমেন্টের সকল কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। কোনো ডিপার্টমেন্টই একা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, তার কাজ করতে গেলে বাকি ডিপার্টমেন্টগুলোর সহযোগিতার প্রয়োজন। এই সহযোগিতা সহজ করার জন্যই এই মিটিং করা। এখানে আপনারা খোলামেলা আলোচনা করবেন। আমাদের সকলের উদ্দেশ্য একটাই- সরকারি নীতি নির্ধারণ অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা উন্নয়নে কাজ করা। তাই প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টই আমরা অন্য ডিপার্টমেন্টকে সাহায্য করার জন্য আগ্রহী হই।’


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার বেশ কিছু রাস্তায় শীতের সময় ডাকাতি বেড়ে যায়, এর কারণ সড়ক বাতির স্বল্পতা। যারা এ বিষয়ে দায়িত্বে আছেন, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি- কীভাবে অন্তত প্রধান সড়কগুলোতে সড়ক বাতির ব্যবস্থা করা যায়। কিছু কিছু যাত্রী ছাউনি আছে, সেগুলাতে কবে লাইট লাগানো হয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই। আর একটা বিষয় হলো, অনেক দপ্তরে অনেক অফিস আছে, সেখানে আপনারা নিজেরা খেয়াল রাখবেন। সেখানে কী হচ্ছে, আপনারা সেখানে যে নাইটগার্ড রাখছেন, তারা কী করছে সেখানে, সেটা আপনাদের মনিটরিং করতে হবে। ট্রাফিক আইল্যান্ড বা রোড ডিভাইডার যেগুলো আছে, সেগুলা একবারে দৃষ্টিকটূ। এই বিষয়টাতে একটু নজর দেওয়া উচিত, সংস্কার করা উচিত।’



সভায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি বলেন, ‘প্রত্যেকটি সংবাদই আমরা প্রকাশ করতে চাই। আমি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জেলার সকল দপ্তরের প্রতি অনুরোধ করব, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব এবং স্থানীয় পত্রিকার সাথে সমন্বয় করার।’ চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ বলেন, ‘পৌরসভা কিছুদিন আগে ঘটা করে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করে, যেটা করা হয় জেলা প্রশাসকের ও পুলিশ সুপারের বাসভবনের আশেপাশে। এই জায়গার ভেতরে যদি আমরা সীমাবদ্ধ থাকি, তাহলে কি হবে? যেখানে একটু বস্তি এলাকা আছে, পাড়া-মহল্লা রাস্তা ড্রেন আছে, সেসব জায়গাতে আপনারা যদি মশক নিধন কার্যক্রম চালাতেন, তবে আমরা ভালো ফিডব্যাক পেতাম। আর একটা বিষয়, রাস্তায় ইট-বালু রাখলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে- কোন কোন জায়গাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেটা আমাদের জানাতে হবে। আমরা জানি যে তিনজন ব্যক্তি যদি রাত্রে না ঘুমায়, তবে জেলার ১৫ লাখ মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে, সেটা হলো জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন আর পুলিশ সুপার।’


সভায় আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী বলেন, ‘আমরা বারবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলছি। একই কথা বারবার বলতেও মন চাই না। তবুও এ সমস্যার সমাধান হয়নি। এখনো একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট নেই সদর হাসপাতালে। অপারেশন থিয়েটার বন্ধ। এ সমস্যা আর কতদিন থাকবে? এতে কারা লাভবান হচ্ছেন?’
সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘দুঃখের সাথে জানাচ্ছি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট আমরা এখনো পাইনি। আজকে দুঃখই প্রকাশ করতে হয়, ৬ মাস ধরে আমরা একই পত্র দিচ্ছি, একই চেষ্টা করছি। কিন্তু আমরা কাঙ্খিত ফলাফল এখনো পাইনি। গতকাল আমাদের মাননীয় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেছেন, অক্টোবরের মধ্যেই তিন হাজার ডাক্তার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। হয়ত দ্রুতই আমরা চিকিৎসক পেতে যাচ্ছি।’

সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী আরও বলেন, ‘জীবননগর উপজেলায় গভীর নলকূপের একটি প্রকল্প চলমান ছিল। কাজে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নিয়ে দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এটা এখন কোন পর্যায়ে আছে এবং এই জেলায় স্মার্ট মিটারে একটি প্রকল্প ছিল, কেন সেটি বাতিল করা হয়েছে, সে সম্পর্কে জানতে চাই।’

এসময় জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজটি বন্ধ রাখা হয়েছে মর্মে জানিয়ে বলেন, ‘এটি নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।’ সভায় ঢাকনাবিহীন ড্রেনে দুর্ঘটনা ঘটার বিষয়টি উল্লেখ করে এ সমস্যার সমাধানের বিষয়ে সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী তুলে ধরলে জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তালিকা দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। এসময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দ্রুত সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ.এম সালাউদ্দীন মনজু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. সাইফুল্লাহ, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মেহেদী ইসলাম, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমীন, কৃষি সম্প্রসারণের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মহসীন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাহাবুদ্দীন, সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুত কুমার বিশ্বাস, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশীদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দিল আরা চৌধুরী, তথ্য কর্মকর্তা শিল্পী মণ্ডলসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী