চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার উজুলপুর গ্রামের কথিত আদম ব্যবসায়ী বিল্পবের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে কৌশলে কিরগিজস্তানে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী দুই যুবক ও তাদের পরিবারের দাবি, ৯ মাস আটকে রেখে কিরগিজস্তানের দালালদের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। মামলা করতে গেলে আদালত চত্বরেই আবারও অপহরণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্পবের শালা ও ঝাঁঝরী গ্রামের যুবলীগ নেতা রূপচাদসহ অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জনকে দায়ী করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী দুই যুবক চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ঝাঁঝরী গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মহিবুল ইসলামের ছেলে ইমন (২১) ও একই এলাকার তৈয়ব আলীর ছেলে শাওন ইসলাম (২৩)। তারা জানান, দেড় বছর আগে উজলপুর গ্রামের দালাল বিল্পবের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। মোট ১১ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন বিল্পব। চুক্তিনামায় সাক্ষী ছিলেন বিল্পবের শালা, যুবলীগ নেতা রূপচাদ। কিন্তু নির্ধারিত দিনে বিমানবন্দরে গিয়ে তারা জানতে পারেন, গন্তব্য মালয়েশিয়া নয়, কিরগিজস্তান। প্রতিবাদ সত্ত্বেও কিছুই করার সুযোগ পাননি তারা।
কিরগিজস্তানে পৌঁছানোর পরপরই এক চক্র তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেয়। এরপর একটি অজানা স্থানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে এবং পরিবারের কাছে ফোন করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতে বাধ্য করে। ৯ মাসে পর্যায়ক্রমে তাদের থেকে মোট ২৬ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী ইমন বলেন, ‘কিরগিজস্তানে পৌঁছানোর পর আমাদের গাড়িতে করে একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর একটি ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো দেওয়া হতো না। কান্নাকাটি করে বাড়িতে ফোন করতে বাধ্য করা হতো।’
ইমনের পিতা মহিবুল ইসলাম জানান, ‘ছেলে যখন কান্নাকাটি করে ফোনে টাকা চাইতো, তখন গরু-ছাগল বিক্রি করে, ধার করে, এমনকি নিজের ঘর বন্ধক রেখে টাকা পাঠিয়েছি। ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ সকল লেনদেনের ডকুমেন্টস আমার কাছে আছে।’ শাওনের পিতা তৈয়ব আলী বলেন, ‘দালাল বিল্পবকে বিশ্বাস করে ছেলের ভবিষ্যতের জন্য টাকা দিয়েছিলাম। মালয়েশিয়া নয়, ছেলেকে কিরগিজস্তানে পাঠিয়ে আটকে রেখে আরও ১৫ লাখ টাকা আদায় করেছে। আদালতে মামলা করতে গেলে কোর্ট চত্বরে আবার অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে।’
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রূপচাদ বলেন, ‘বিল্পব আমার বোন জামাই ঠিকই, তবে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ১৫ বছর ধরে তার সঙ্গে কথা নেই। কে কোথায় গেছে, কিছুই জানি না। এখন আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’ অন্যদিকে বিল্পব বলেন, ‘আমি তাদের কিরগিজস্তানেই পাঠিয়েছি, সেখানে তারা ট্রেনিং করেছে। কিন্তু কাজ না করে তারা সারাক্ষণ টিকটক করত আর বাড়িতে কান্নাকাটি করে টাকা চাইত। তাদের আটকে রাখার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।’ ন্যায়বিচারের জন্য বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
প্রতিবেদক হিজলগাড়ি