সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগরে মসজিদের ছাদে শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ

সালিশে মীমাংসার চেষ্টা, ন্যায়বিচার চায় পরিবার
  • আপলোড তারিখঃ ২৮-০৭-২০২৫ ইং
জীবননগরে মসজিদের ছাদে শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: প্রতীকী ছবি

জীবননগর উপজেলার শাখারিয়া পিচমোড় গ্রামে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই গ্রামের মৃত কদম মোল্লার ছেলে কেসমত আলী (৫৫)। বিষয়টি গ্রামে জানাজানি হলে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী নেতার নেতৃত্বে সালিস বসে। সেখানে ১৫ হাজার টাকায় ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার।


শিশুটির পরিবার জানায়, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশু নিয়মিত গ্রামের দুইতলা বিশিষ্ট শাখারিয়া পিচমোড় জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যেত। শিশুটির মা জানান, মাঝে মাঝে মাগরিবের নামাজের পর কেসমত আলী তার ছেলে এবং আরেক শিশুকে ছাদে নিয়ে যেত এবং ভয়-ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে বলাৎকার করতো। তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলে কিছুই বলেনি। তবে ১৬ জুলাই বুধবার এক শিশুকে মসজিদের ছাদ থেকে নামতে দেখে সন্দেহ হয়। জিজ্ঞেস করলে সে সব খুলে বলে এবং আমার ছেলের কথাও জানায়। পরে ১৮ জুলাই শুক্রবার কয়েকজন গ্রামবাসী আমাদের বাড়িতে এসে ঘটনাটি জানায়। তখন আমার ছেলে কান্নাকাটি করে সব স্বীকার করে।’


শিশুটির মা আরও বলেন, ‘আমার ছেলের এখনো দুঃস্বপ্ন হয়, ঘুমাতে পারে না। অথচ ওই লোক এখনো মসজিদে চলাফেরা করছে। সবাই বলছে, সে নাকি আগেও এরকম কাজ করেছে।’ তিনি জানান, ‘২২ জুলাই মঙ্গলবার স্থানীয় বিএনপি নেতা আলিফ মেম্বার, কামাল মেম্বারের ভাই জামাল ও জামায়াত নেতা সলিমসহ কয়েকজন গ্রামবাসী সালিশে বসেন। পরদিন আমাদের বাড়িতে ১৫ হাজার টাকা ও একটি স্ট্যাম্প পাঠিয়ে স্বাক্ষর করতে বলা হয়, যেন আর কোনো অভিযোগ না করি। পরিবারের ওপর চাপও সৃষ্টি হয়, মামলা দিলে পত্রিকায় ছবি ছাপবে, খরচ হবে, বদনাম হবে ইত্যাদি বলে ভয় দেখানো হয়। আমি কোনো টাকা চাইনি, আমি ন্যায়বিচার চাই।’


জীবননগর উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য আলিফ মেম্বার বলেন, ‘ঘটনার সত্যতা নেই। গ্রামে যাতে গোলমাল না হয়, সেই কারণে আলোচনা হয়েছে। টাকা-পয়সা বা স্বাক্ষরের কোনো বিষয় ঘটেনি।’ শাখারিয়া ইউনিট জামায়াতের সভাপতি মো. সলিম বলেন, ‘দুই পক্ষের সম্মতিতে গ্রামে একসাথে বসবাসের স্বার্থে আমরা সালিশে বসেছিলাম। ডাক্তার খরচ বাবদ ১৫ হাজার টাকা দেয়ার কথা ছিল, তবে শিশুটির পরিবার সেটা নেয়নি। আসলে এভাবে বসা ঠিক হয়নি, বিষয়টি সালিশযোগ্য নয়।’


এ বিষয়ে অভিযুক্ত কেসমত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা যা শুনেছেন, তাই লিখেন।’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী