মাইলস্টোন ট্রাজেডিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সঠিক সত্যতা প্রকাশ না করা এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের হয়রানির প্রতিবাদে ‘চুয়াডাঙ্গা বিপ্লবী ছাত্র-সমাজ’ ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা তিনটায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সামনে এসএসসি ২০২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীসহ জেলার সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘বিবেকহীনতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থী অনিতা আফরিন বলেন, ‘কেন মাইলস্টোন কলেজের ওপর বিমান দুর্ঘটনা ঘটবে? বিমান চলাচলের তো নির্দিষ্ট জায়গা আছে। তাহলে কেন ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান ওড়ানো হচ্ছে? আর মেয়াদোত্তীর্ণ বিমান দিয়ে কেন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে? আমরা এসকল প্রশ্নের জবাব চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটা ৯০ দশকের বিমান। আমরা ২০২৫ সালে এসে কেন সেই পুরনো বিমান দিয়ে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাব? আর ঘটনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে রাতে পরীক্ষা হবে! যেখানে মিলনায়তনেই মৃতদেহ, মনে হয়েছে আমাদের পরীক্ষার হলেও যেন কোমল শিক্ষার্থীদের মৃতদেহগুলো পড়ে রয়েছে। সেই হলে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরীক্ষা দেবে? আমরা এমন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এমন শিক্ষা উপদেষ্টা চাই না।’
সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সালমান ফরাসি বলেন, ‘আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি রাত ২টায় অনেক অ্যাম্বুলেন্স গিয়েছে, শিক্ষার্থীরা ধাওয়া করেও ধরতে পারেনি। আমরা ধারণা করছি মৃতের সংখ্যা আরও বেশি। ওরা লাশ লুকিয়েছে, গুম করেছে। সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। এত বড় ঘটনার পরেও তারা পরীক্ষা বাতিল করতে চায়নি। শিক্ষার্থীদের চাপে পড়ে তারা বাধ্য হয়ে পরীক্ষা বাতিল করেছে। আমার প্রশ্ন- তারা কি চেয়েছিলো, পরীক্ষার আড়ালে লাশ গুম করতে?’
এছাড়াও বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব সাফফাতুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অনেক ছোট ছোট ভাই-বোন শহিদ হয়েছে। আগুনে পুড়ে জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়ছে। আমরা দেখেছি, মানবিক গুণসম্পন্ন এক শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই শহিদ হয়েছেন। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই চরম অবনতি ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না। ফলে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা মাইলস্টোনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সারাদেশে রাস্তায় নেমেছে।’
সাফ্ফাতুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রযন্ত্রকে জানিয়ে দিতে চাই- আর কত জীবন, আর কত রক্ত গেলে বাংলাদেশের মানুষের জীবনের মূল্য দেবে এই রাষ্ট্র? মাইলস্টোন একটি বড় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যার পারমানেন্ট ক্যাম্পাসের পাশে সামরিক বিমান বাহিনীর ট্রেনিং কেন্দ্র। আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন-একটি সামরিক বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশে জনবহুল আবাসন এলাকা গড়ে ওঠার অনুমোদন কিভাবে রাজউক দিয়েছিলো? সেই অনুমোদন এবং দায়িত্ব অবশ্যই তদন্ত করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে জনগণের ও ছাত্রসমাজের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।’
এসময় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী স্লোগানের মাধ্যমে অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে। কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন মুশফিকুর রহিম, ফাহিম, শোভা, ইমরানসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং আরও অনেকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক