দামুড়হুদায় টানা ১৫ দিনের বৃষ্টিতে ভৈরব নদের পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। এতে ফসলি জমি ও কিছু বাড়িঘর তলিয়ে যায়। পরিস্থিতির অবনতি হলে স্থানীয়দের দাবিতে গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় আড়াআড়ি বাঁধ কেটে দেওয়া হয়, যাতে জমে থাকা পানি সরাসরি নদীতে নেমে যেতে পারে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সুবুলপুর এলাকায় ভৈরব নদের ওপর একটি স্লুইসগেট নির্মাণের জন্য আগেই নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। ফলে টানা বৃষ্টির পানি আটকে গিয়ে চারপাশ প্লাবিত হয়। একইসঙ্গে বাঁধের অপর পাশ থেকেও পানি চেপে এসে বাঁধে চাপ তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা ভৈরব নদের পাড়ে ভিড় করেন এবং বাঁধ কেটে সৃষ্ট প্রবল স্রোতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। যদিও এখনো বড় ধরনের কোনো ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে অনেকেই বন্যার ভয়ে আগেভাগেই পাট কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।
সুবুলপুর এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘এমনিতেই পানি বেড়েছে। তার ওপর ভৈরব নদীর পানি আসলে পাট ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। পাট কাটার সময় না হলেও কেটে ফেলতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে আমরা হেরে গেছি। তাই পরিপত্ব হওয়ার আগেই পাট কেটে ফেলতে হচ্ছে।’
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা বকুল আহমেদ বলেন, ‘ভৈরব নদে পূর্বে দেওয়া আড়াআড়ি বাঁধ কেটে পানি নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা অবগত আছি।’ এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তিথি মিত্র বলেন, ‘ভৈরব নদের আশপাশের কিছু মানুষ আমার দপ্তরে দরখাস্ত দিয়েছিলেন। যেহেতু এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ, আমি তাদের কাছে আবেদনটি ফরওয়ার্ড করে দিয়েছি।’
প্রতিবেদক দামুড়হুদা