মেহেরপুর সদরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও দেশের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ উপযোগী গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুনের প্রথম আঞ্চলিক রিভিউ ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গার তিন তারকা মানের হোটেল সাহিদ প্যালেসে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজিপুর, পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন উইং এর পরিচালক ড. মো. আব্দুর রশীদ। আজ দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হবে মাঠ পর্যায়ের কর্মশালা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস এবং ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. খয়ের উদ্দিন মোল্লা। কর্মশালায় বিএআরআই, বিএডিসি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা ও কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মতিয়ার রহমান গত এক বছরের গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল উপস্থাপন করেন। কর্মশালার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উপপ্রকল্প পরিচালক ড. জাহান আল মাহমুদ।
কর্মশালায় জানানো হয়, এই প্রকল্পটি চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার ২৮টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় মেহেরপুরের বারাদীতে একটি আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল বিএআরআই উদ্ভাবিত ফসলের জাত ও প্রযুক্তি বিস্তার, প্রয়োজনীয় গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ এবং কৃষির সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এছাড়াও গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে মানসম্পন্ন বীজ (ভাইন, কন্দ, গুড়িকন্দ), চারা ও কলম উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বিতরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিলুপ্তপ্রায় ফসলের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, মূল্যায়ন ও প্রজননে ব্যবহারের পাশাপাশি সবজি, ফল, ডাল, তৈল, মসলা, ফুল ও অপ্রধান দানাদার ফসলের টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বিস্তারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গবেষক, কৃষক, কৃষাণী, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং নার্সারি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নকেও প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মেহেরপুরসহ বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চল উঁচু ও বন্যামুক্ত এলাকা হওয়ায় এখানে সবজি, ডাল ও তেল ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও পূর্বে কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান ছিল না। এই আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে কারিগরি সহায়তা প্রদান সম্ভব হবে।
এ অঞ্চলে অধিকাংশ ফসল ভালো জন্মালেও সঠিক বাজারমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা ফসল ক্ষেতেই ফেলে রাখতে বা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে বাধ্য হন। তাই, ফসল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনায় গবেষণা কার্যক্রম চালানো হবে, যা গ্রামীণ নারী ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
সর্বোপরি, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রটি নিরাপদ ও পুষ্টিমানসম্পন্ন ফসল উৎপাদন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যা একদিকে যেমন কৃষির সার্বিক উন্নয়ন ঘটাবে, অন্যদিকে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথেও এগিয়ে নেবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক