দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের পীরপুরকুল্লা মাঠে টানা বৃষ্টিতে কেটে রাখা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মাঠের পর মাঠ ভেসে যাওয়া ধান দেখে কৃষকদের সোনালী স্বপ্ন এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে।
কয়েক দিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর যে ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষকরা, এখন তা বৃষ্টির পানিতে ভাসছে। অনেক জায়গায় ধান সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে পচন ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পানির মধ্যে নেমে ভাসমান ধান সংগ্রহের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, এবার ধানের ফলন ভালো হলেও শেষ মুহূর্তে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে নিচু জমিগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় ধান ঘরে তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রমিক সংকট ও ধান শুকানোর জায়গার অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
পীরপুরকুল্লা গ্রামের কৃষক আসাদুল হক জানান, এই জমিগুলো নিচু হওয়ায় এখান থেকে পানি সরতে সময় লাগবে। আমার দেড় বিঘা জমির ধান কেটে রেখেছি। বৃষ্টির পানি বেধে থাকায় অন্য জায়গায় সরাতে পারছি না। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে, দুই এক দিন দেখি।
কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, মাত্র ১৫ কাটা ধান পানির নিচে পড়ে আছে। যদি রোদ না হয় তাহলে ধানের আগা কাটা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
এলাকার কৃষকরা এখন এই অপূরণীয় ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন তা ভেবে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে জরুরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদক কার্পাসডাঙ্গা