রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে অবৈধ জন্ম নিবন্ধনের অভিযোগে সচিবসহ গ্রেপ্তার ২

মামলা দায়ের, চক্রের হোতা মহাসিন ও জাহিদ ধরাছোঁয়ার বাইরে
  • আপলোড তারিখঃ ১০-০৫-২০২৬ ইং
বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে অবৈধ জন্ম নিবন্ধনের অভিযোগে সচিবসহ গ্রেপ্তার ২

চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে বিধিবহির্ভূতভাবে জন্ম নিবন্ধন করার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দর্শনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. রায়হান মাহমুদ (৩৫), পিতা মৃত রজব আলী, সাং কেদারগঞ্জ, থানা ও জেলা চুয়াডাঙ্গা এবং মো. আরিফুল ইসলাম (৩০), পিতা ইসমাইল হোসেন, সাং বেগমপুর বগুলাপাড়া, থানা দর্শনা, জেলা চুয়াডাঙ্গা।


জানা যায়, গত ৭ মে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিথি মিত্রের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বরে অভিযোগ করেন যে, বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মবহির্ভূতভাবে জন্ম নিবন্ধন করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা যায়, মৌলভীবাজার জেলার মোহাম্মদ শহীদ মিয়া ও কুমিল্লা জেলার বিল্লাল নামের দুই ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সম্পন্ন করা হয়েছে। অথচ তারা কেউই বেগমপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন এবং স্থানীয় লোকজনও তাদের পরিচয় জানেন না। অভিযোগ রয়েছে, উপযুক্ত প্রমাণপত্র ছাড়াই এসব জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে।


এছাড়া তদন্তে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ৭ মে পর্যন্ত বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের মাধ্যমে এ ধরনের আরও একাধিক অবৈধ জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে দর্শনা থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় দর্শনা থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ২১(১)/২১(২)/২৭(১)/২৭(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।


এবিষয়ে বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক বিল্লাল হোসেনের কাছ জানতে চাইলে তিনি বলেন, জন্মসনদ জালিয়াতির বিষয়টি আমি  জানা মাত্রই আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি এবং গত ৪ মে তথ্য সেবা কেন্দ্রের দুই পরিচালক আরিফুল ইসলাম ও সুমাইয়া ইসলাম সুইটিকে কারণ দর্শনানোর নোটিশ প্রদান করি। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।


স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ,নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজ দীর্ঘদিন থেকেই জালিয়াতি করে আসছিলো একটি সংবদ্ধ চক্র। মূলত বাইরে থেকে কাজের চুক্তি করতো যদুপুর গ্রামের জয়নালের ছেলে মহাসিন, একই গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে জাহিদ ও বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ আশিক। বেগমপুর কলোনীপাড়া বাজারে অবস্থিত মহাসিনের কম্পিউটারের দোকানে বসেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাজ ধরে বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রায়হান মাহমুদের মাধ্যমে সম্পন্ন করত। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তৎপরতায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও তথ্য সেবা কেন্দ্রের আরিফুল আটক হলেও চক্রের অন্যতম দুই হোতা মহাসিন, জাহিদ ও গ্রাম পুলিশ আশিক রয়েছে রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মহাসিন ও জাহিদকে আটক করে জিজ্ঞাসা বাদ করলে অনেক তথ্য উদ্‌ঘাটন হবে বলে ধারণা করছে সচেতন মহল।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গার কলেজপাড়ায় রহস্যময় প্রাণির আক্রমণ