আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ যাতায়াত করা শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা
- আপলোড তারিখঃ
০৩-০৪-২০১৮
ইং
জীবননগর পৌর এলাকার বাড়ভাঙ্গায় প্রধান সড়কের পাশেই ময়লার স্তুপ
জীবননগর অফিস: জীবননগর-দত্তনগর সড়কে জীবননগর পৌর এলাকার বাড়ভাঙ্গা নামক স্থানে মেইন সড়ক সংলগ্ন ডাম্পিং স্টেশনে জমাকৃত ময়লার স্তুপের পাশ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে ময়লার দুর্গন্ধে শিশুরা প্রতিনিয়িত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
জীবননগর ডিগ্রি কলেজের অর্নাস রাষ্ট্র বিঙ্গান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাজিবসহ দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র নাজমুল, জাকির হোসেন ও মনির হোসেন অভিযোগ করে বলেন,দত্তনগর রোডের পশু হাটের পাশে জীবননগর পৌরসভার ময়লার দুর্গন্ধে আমাদের কলেজে যেতে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয় ওই দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে যাওয়া তো দুরে থাক ওর আস পাশ দিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না এমন কি রাস্তা দিয়ে যে সমস্থ যাত্রী গাড়িতে যাওয়া আসা করে তারাও নাক,মুখে কাপড় বেধে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যত দ্রত সম্ভব ময়লাগুলো সরিয়ে ফেলা উচিত।
পথচারী ইউসুফ মাষ্টার, নুরুন্নাহার বেগম বলেন, আমরা প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে সকালে দত্তনগর রোডের বাড়ভাঙ্গা নামক রাস্তা ফাকা থাকায় হাঁটতে যাই। রাস্তার পাশে ময়লার দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ঠ হয় এমন কি দম বন্ধ হওয়ার মত। কিন্তু কিছু করার নাই শরীর ঠিক রাখতে এবং ডাইবেটিকস নিয়ন্ত্রনে আনতে সকালে হাঁটতে হয়। তাই আমরা মেইন রাস্তার পাশ থেকে দুর্গন্ধ মুক্ত করার জন্য জীবননগর পৌরসভার মেয়র সাহেবের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
জীবননগর দত্তনগর রোডে অবস্থিত জীবননগর আলিম আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুল খালেক জানান, আমাদের মাদ্রাসায় ৪শ থেকে ৫শ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। যার বেশির ভাগ শিক্ষার্থী তেতুলিয়া, বাড়ভাঙ্গা, পাথিলা ও দত্তনগর এলাকার। তাই বাড়ভাঙ্গা মেইন সড়কের পাশে ফেলা ময়লার স্তুপের দূর্গন্ধে তাদের মাদ্রাসায় আসতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের প. প. কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও এলার্জিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দুর্গন্ধ এড়াতে ময়লার স্থানটি মেইন রাস্তার পাশ থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ায় ভালো এবং সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন ময়লাগুলো ভালোভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিলে ভালো হয়।
এ ব্যাপারে জীবননগর পৌসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, জীবননগর শহরের বেশ কিছু মুরগি ব্যবসায়ী আছে যারা মুরগির মাংস কেটে বিক্রি করে। তারা মুরগির নাড়িভুড়ি বাড়ভাঙ্গার রাস্তার পাশে বস্তা বোঝায় করে ফেলে আসে, আর কিছু খাবার হোটেল ব্যবসায়ী আছে যারা হোটেলের ময়লা রাতের আধারে রাস্তার পাশে ভ্যানযোগে ফেলে আসে। যা পরে অতি দূর্গন্ধ হয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে। আমি ইতি মধ্যেই মুরগি ও হোটেল ব্যবসায়ীদের নোটিশ করেছি। তাদের জন্য জীবননগর পৌর পশুহাটের কাছে গর্ত করে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট যায়গা করা দিয়েছি। সেখানে যেন তারা তাদের ময়লা ফেলে। আমরা ডাম্পিংয়ের জন্য একটি নিদিষ্ঠ স্থান খুঁজার চেষ্টা করছি। তবে এটি খুব শিঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে।
কমেন্ট বক্স