প্রজন্মের ভাবনায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা
- আপলোড তারিখঃ
২৬-০৩-২০১৮
ইং
'- সাজ্জাদ হোসেন
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চুড়ান্ত বিজয়ের ছয় শত ষাট দিন পর আমার জন্ম। স্বাভাবিক কারণে আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ আমাকে আলোড়িত করে। আমি সম্মানিত হই, গর্ববোধ করি এই দেশ ও মানুষের সংগ্রামী জীবনাচরণ নিয়ে। ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বাঙালির জীবনে মহাকাব্য, সর্বশেষ্ঠ অর্জন। আর ‘জয় বাংলা’ বাঙালির বিজয়ের সার্বজনীন শ্লোগান। এই শ্লোগান স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের। যদিও রাজনৈতিক ডামাডোলে ‘জয় বাংলা’ এখন দলীয় শ্লোগানে রুপ নিয়েছে। কিন্তু কেন! জিজ্ঞাসাটা কোটি কন্ঠে, বুকের জমিনে।
আধুনিক সভ্যতার যাত্রাপথে বাঙালির জীবন নানাবিধ ঘটনার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। এই বিকাশ নিজ পরিচয়ের যোগসূত্র ঘটায়। জাতি অনুপ্রাণিত হয় স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনে। এসব আন্দোলনের সূচনাপর্ব থেকে নেতৃত্ব দেন শ্রী চিত্তরঞ্জন দাস, বিপিণ চন্দ্র পাল, শরৎচন্দ্র বসু, শের-এ-বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মানিক মিয়া, সুভাষচন্দ্র বসু, কমরেড মনি সিংহ এবং কমরেড মোজাফফর আহমদ এর মতো গুণীজনেরা এবং শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বে আসে বাঙালি জাতির জীবনে মুক্তি। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বঙ্গবন্ধুর দৃঢ়স্বর উচ্চারণ। এই মুক্তি সকল প্রকার শোষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে। আর স্বাধীনতা একটি সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার। এলো যুদ্ধ। মানুষের জান গেল, মান গেল, সহায়-সম্পদ সব হারালো। কিন্তু সেই কাঙ্খিত মুক্তি অর্জিত হলো না। বরং স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে ধানমন্ডি বত্রিশ, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, সেনানিবাস এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ রক্তাক্ত হলো। অতঃপর ‘বাঙালি’ আর ‘বাংলাদেশি’ জাতীয়তাবাদের দ্বন্দ্বযুদ্ধে বিভাজিত হলো ‘এ’ আর ‘বি’ রাজনৈতিক শিবিরে শহীদের রক্ত¯œাত পবিত্র মাটি। এরই মাঝে নতুন রঙের প্রলেপে ঢাকা পড়ে যায় ‘মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার’। পাল্টে যায় ইতিহাস, সংবিধান, নীতিকথা।
ইতিহাসের আলোকময়তায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্থপতি যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়, তবে বাংলাদেশ নির্মাণের প্রধান কারিগর তাজউদ্দীন আহমদ, উপকরণ সরবরাহকারী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী আর নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে মেজর জিয়াউর রহমান এর মতো সৈনিকদের অবদান নেহায়েত কম নয়। এসব নিয়ে তর্কযুদ্ধ নয় বরং ইতিহাসে যার যেটুকু অবদান, স্বীকৃতি প্রদান এবং প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শন জাতির নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। এখানেই রয়েছে আমাদের বিরাট কৃপনতা। সত্য-মিথ্যার দোলাচলে ইতিহাস পাল্টে ফেলার প্রবণতা। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। মনে রাখা প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মানেই যেমন কেবল আওয়ামীলীগ, বঙ্গবন্ধু, শহীদ, বীরাঙ্গনা, মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকারের গল্প নয়, ঠিক তেমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানেই বছরের নির্দিষ্ট দিনে শহীদ মিনার, স্মৃতিস্তম্ভ কিংবা স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন নয়। এগুলি সব আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ‘চেতনা’ হৃদয়ে ধারণ, মস্তিষ্কে সংরক্ষণ ও কর্মে প্রতিফলন ঘটাতে হয় প্রতিক্ষণ। দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হয় একজন ‘সক্রিয় নাগরিক’ এর ভূমিকায় প্রতিদিন। প্রশ্ন হচ্ছে আদৌ আমরা কি দায়িত্বশীল আচরণ করি? না কি সকল প্রকার অন্যায়, অসমতা, অন্যায্যতা ও অমানবিকতা গায়ে মেখে ‘নিস্ক্রিয় নাগরিক’ এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হই, প্রগতিশীল ঝান্ডার নিচে দাঁড়িয়ে এসব চর্চা করি জীবনে। তবে কেন মিছেমিছি শহীদ বেদীতে দাঁড়িয়ে শপথ গ্রহণ? মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার অঙ্গিকার?
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অফুরান শক্তি। যে শক্তির আলোকচ্ছটা বাহাত্তরের সংবিধানে প্রকাশ ঘটে। রাষ্ট্রীয় চারনীতি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অর্থনৈতিক সামাজিক ন্যায়বিচার (সমাজতন্ত্র) গ্রহণের মধ্য দিয়ে। আমার সীমিত জ্ঞানে এই চতুরঙ্গে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নির্যাস। যা আমরা প্রায়শই সভা-সমাবেশ, বক্তৃতা-বিবৃতিতে উচ্চারণ করি, কিন্তু বিশ্বাস করি না। যদি সত্যিই বিশ্বাস করতাম তবে ‘বাংলাদেশ’ হতো একটি শোষণ মুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। স্বাধীনতাত্তোর এ যাবৎ যারাই রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা করেছে তারাই মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে সরে গিয়ে দেশকে শাসন করেছে। সংবিধানকে কাঁটাছেড়া করে কালো আইনের মাধ্যমে যেমন স্বৈরতান্ত্রিক শাসন কায়েম করেছে, তেমনি বিচার ব্যবস্থার উপর হস্তক্ষেপ করেছে। স্বাধীনতা বিরোধী মৌলবাদী শক্তিকে আস্কারা দিয়ে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশের সম্পদ তেল, গ্যাস, কয়লা বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়েছে, ভারতীয় স্বার্থে সুন্দরবন ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। ঘুষ, দুর্নীতি, দখলদারীত্ব, দলীয়করণকে জায়েজ করেছে। দেশকে ধনী-গরিব বৈষম্যের রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এসব ঘটনা নিশ্চয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমর্থন করে না। আর করে না বলেই মানুষে-মানুষে বিভেদ, আস্থা-বিশ্বাস-বোঝাপড়ায় ফাটল, বিভাজিত জাতীয় ঐক্য, হোঁচট খাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়ন প্রতিনিয়ত। যে দেশে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মধ্যে মতানৈক্য থাকা সত্ত্বেও এই যুগলবন্দীতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির বৈশ্বিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা ‘কাগমারী সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে দেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধের এমন দৈন্যদশা কোন ক্রমেই মেনে নেওয়া যায়না।
বাংলাদেশে মানুষের অনেক প্রত্যাশা, অনেক আকাঙ্খা, অনেক স্বপ্ন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, স্বাধীনতা উত্তরকালে মানুষের সেই প্রত্যাশা, আকঙ্খা, সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। মানুষ আজও হাজারো সংকটে জর্জরিত এবং যতই দিন যাচ্ছে এই সংকট আরো ঘনিভূত হচ্ছে। আমরা কি চাই এবং আমাদের চাওয়াগুলিকে কিভাবে অর্জন সম্ভব তা আমরা সঠিক ভাবেই নির্ধারণ করেছিলাম বাহাত্তরের সংবিধানে মূল ‘চারনীতি’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী খুব অল্পসময়ের মধ্যে বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্যদিয়ে এদেশের রাজনীতিতে যে উল্টো ধারা যুক্ত হলো তা আজও পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তেনের সাথে সাথে এদেশের অর্থনীতি, সমাজ জীবন ও সাংস্কৃতিক জীবনেও সে বৈরীতা আজও বিদ্যমান। শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদল হচ্ছে, কিন্তু নীতির কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। যে কারণে অবস্থার কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। শাসক শ্রেণির বিভিন্ন গোষ্ঠী-কেউ বাঙালি জাতীয়তাবাদ, কেউ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, কেউ ইসলামের নামে জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। এদের প্রকৃত অর্থে কোনো নীতি নেই। এদের একটাই নীতি, আর তা হলো গদি। তাই ক্ষমতার রুটি ভাগাভাগিতে যখন রাজাকার-স্বৈরাচারকে সাথে নিয়ে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল একই গোয়ালে ঘর বাঁধে, যখন মৌলবাদী দলগুলির আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী’ দাবীদার দু’টি দলেরই বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, যখন নাগরিকের ভোটের অধিকার তাদের হাতেই হরণ হয়ে যায়, তখন তাদের কাছ থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ সম্পর্কিত যে কোন জ্ঞান-গরিমার বয়ান বড়ই বেমানান লাগে।
ছেচল্লিশ বছরে বাংলাদেশের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ‘গণতন্ত্র’ হারিয়ে গিয়েছে। যে গণতন্ত্রের জন্য বারবার মানুষ জীবন দিয়েছে, এখনো জীবন দিচ্ছে। আইন, বিচার ও শাসন ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনও গণতন্ত্রের বদলে কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা চলছে। সংবিধানে দেশের অর্থনীতিকে পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘সমাজতন্ত্র’ কে প্রধান্য দেওয়ার কথা থাকলেও কার্যত অর্থনীতি পরিচালিত হচ্ছে মুক্তবাজার দ্বারা। ফলে লুটপাটই অর্থনীতির মূলধারা হয়ে পড়েছে। আর লুটের অর্থ ভাগাভাগি করতে গিয়ে সমাজে সন্ত্রাস, হত্যা, গুম, অপহরণ, নিখোঁজ, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি ইত্যাদিসহ নানা অপসংস্কৃতির দৌরাতœ্য দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার লুটের অর্থ অবাধে পাচার হয়ে গিয়ে বিদেশে সেকেন্ড হোম, বেগমপাড়া গড়ে উঠেছে। লুটের মাত্রা এতই বেশি যে ব্যাংক, শেয়ার বাজার, রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুট হয়ে গেলেও সবকিছুই স্বাভাবিক বলে সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। ভাষাভিক্তিক ‘জাতীয়তাবাদ’ এর ভিত্তি এখন ধর্মের কাছে পরাভূত। আর ধর্মনিরপেক্ষতার স্বপ্ন আজ ‘রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম’-এর দ্বারা পর্যবসিত। সেই সাথে যুক্ত হলো নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় হিন্দুদের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, প্রতিমা ভাংচুর কিংবা বামুর বৌদ্ধবিহারে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। সরকার মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেও, বাস্তবে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সঙ্গে আপোষ করেছে। যে কারণে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পরেও, বাহাত্তরে সংবিধান পূণঃপ্রতিষ্ঠায় আজও গরিমশি। জাতি স্বৈরাচারী আচারণ নয়, সামন্তবাদ আচারণ আশা করে। যে কারণে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল, মানুষ জীবন দিয়েছিল। অথচ স্বাধীনতাত্তোরকালে সেই স্বৈরাচারীতা ফিরে এলো বিভিন্ন কৌশলে, বিভিন্ন মুখোশে, বিভিন্নতার সিঁড়ি বেয়ে। যা ভীষণ আশাহত করে নতুন প্রজন্মকে। রাজনীতি বিমুখতার পথে।
মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ মুক্তিযোদ্ধারাই দ্বিখন্ডিত করে ফেলেছেন। যে কারণে বিজয়ের ছেচল্লিশ বছর পর আজও ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ নিয়ে বাকবিত-া। বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকেও স্বাধীনতার বিরোধী বানানোর পায়তারা। কাউকে ছোট করে নিজে বড় হওয়া যায় না বরং অন্যকে সম্মান করে নিজে সম্মানিত হতে হয়। সবকিছু রাজনৈতিক মোড়কে বাজারজাত না করে, সত্যের মোড়কে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আদর্শকে বাজারজাত করুন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী অনেক মুক্তিযোদ্ধারই কার্যকলাপ নিয়ে বির্তক থাকতে পারে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকালের নয়। মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ‘বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠায় অবিচল ছিলেন বলেই নিজের জীবন বাজী রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাজনীতিবীদেরা মনে করেন জনগন কিছুই বোঝে না, নতুন প্রজন্ম ইতিহাস জানে না। তথ্য-প্রবাহের এই যুগে মানুষকে বোকা ভাবার কোন কারণ নেই। ইতিহাসের আলোকরশ্মি বড়ই উজ্জ্বল। অন্ধকার পরাজিত সবসময় তার কাছে। সুতরাং নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা ইতিহাসের দায় অনুভব করুন প্রতিদিনের কর্মে। রাজনৈতিক সমঝোতায় বিলয় হোক ব্যবধান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হোক মুক্ত, চেতনা হোক অবারিত। তবেই সাত আসমানে শহীদেরা নির্ভাবনায় নিদ্রাযাপন করবে, নুর হোসেনদের আত্মা শান্তি পাবে, লাখো-কোটি স্বপ্ন পূরণ হবে। সেদিন আর বেশি দুরে নয়। যেদিন নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে অমানিশার এই অন্ধকার কেটে যাবে, নতুন সূর্য উঁকি দেবে উঠোনে। উদ্ভাসিত হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ‘বাংলাদেশ’। আর সমস্বরে দৃঢ়কন্ঠে উচ্চারিত হবে ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। সেদিন কবি রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আক্ষেপ করে লিখবে না কবিতা-
কথা ছিলো, ভাষার কসম খেয়ে
আমরা দাঁড়াবো ঘিরে
আমাদের মাতৃভূমি, জল,
অরণ্য, জমিন, আমাদের
পাহাড় ও সমূদ্রের আদিগন্ত উপকূল-
আজন্ম এ-জলাভূমি খুঁজে পাবে
প্রকৃত সীমানা তার।
কথা ছিলো, আর্য বা মোঘল নয়,
এ-জমিন অনার্যের হবে।
কমেন্ট বক্স