বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগরে করতোয়া ও ভৈরব নদ এখন ফসলি মাঠ

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০৩-২০১৮ ইং
জীবননগরে করতোয়া ও ভৈরব নদ এখন ফসলি মাঠ
মিঠুন মাহমুদ: জীবননগরে দখল হচ্ছে আবহাওয়ামান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী করতোয়া ও ভৈরব নদ। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এ করতোয়া ও ভৈরব নদ এখন ফসলি মাঠ আর মাছের ঘেরে পরিনত হয়েছে। বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর নতুন করে আবারও দখল হচ্ছে জীবননগর উপজেলায় করতোয়া নদী ও ভৈরব নদ। প্রভাবশালী ভূমি দস্যুরা উপজেলার এ দু’ নদ-নদীর দু’পাশ থেকে মাটি কেটে ভরাট করে তাতে চাষাবাদ শুরু করেছে। আবার কেউ কেউ নদ-নদীর মাঝখানে পুকুর খনন করে তাতে মাছ চাষ করছেন। যদি জরুরি ভিত্তিত্বে এসব পুকুর অপসারণ ও অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে জমি দখলমুক্ত করা না হয় তাহলে অচিরেই এ নদ-নদীর অস্তিত ও ঐতিহ্য একেবারে হারিয়ে যাবে। জীবননগর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্ত, উথলী, আন্দুলবাড়িয়া ও বাঁকা ইউনিয়ন এবং জীবননগর পৌরসভায় ১ নম্বর সরকারি খাস খতিয়ানে ভৈরব নদের প্রায় ৮৩ হেক্টর এবং করতোয়া নদীর প্রায় ৩ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ভৈরব নদে জীবননগর পৌরসভায় ২১ হেক্টর, উথলী ইউনিয়নে ৩২ হেক্টর, আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ১৯ হেক্টর ও বাঁকা ইউনিয়নে ১১ হেক্টর জমি রয়েছে এবং করতোয়া নদীতে সীমান্ত ইউনিয়নে ৩ হেক্টর জমি রয়েছে। সরেজমিনে সীমান্ত, আন্দুলবাড়িয়া এবং উথলী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আন্দুলবাড়িয়া বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে ভৈরব নদের মাঝখানে বড় একটি পুকুর খনন করে তাতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। নদের জমি দখল করে পুকুরটি খনন করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দা আরফিন আলী। নদের মাঝখানে পুকুর খননের ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু আরফিন আলী একা না। ওই এলাকার প্রভাবশালী ভুমি দস্যুরা একাধিক যায়গায় পুকুর খনন করে অবৈধভাবে নদের জমি দখল করেছেন। এছাড়া ভূমি দস্যুরা এ দু’ নদ-নদীর অধিকাংশ জমি দখলের পর এর দু’পাশ থেকে মাটি কেটে নদী ভরাট করে তাতে চাষাবাদ শুরু করেছেন। এসব কারনে নদ-নদীর পানি প্রবাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। আন্দুলবাড়িয়া এলাকার এক কৃষক জানান, আগে ভৈরব নদের পানি দিয়ে ধানসহ অন্যান্য ফসল ক্ষেতে সেচ দিতাম। কিন্তু ভূমি দস্যুরা নদের জমি দখল করে পুকুর খনন করায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে নদ একেবার শুকিয়ে গেছে। ফলে ডিজেল চালিত স্যালো ইঞ্জিন দিয়ে ফসল ক্ষেতে সেচ দেবার কারনে উৎপাদন খরচ বহুগুনে বেড়েস গেছে। তিনি আরো জানান, ভূমি দস্যুরা এর আগে একবার এভাবে নদের জমি দখল করে নিয়েছিল। তখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কারণে তা দখলমুক্ত হয়েছিল। বর্তমানে প্রশাসনের তেমন কোন হস্তক্ষেপ বা নজরদারি না থাকায় ভূমি দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।একই অবস্থা সীমান্ত ইউনিয়নের করতোয়া নদীতে সেখানেও বেশ কিছু হতদরিদ্র কৃষক এবং একটি প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা ধান চাষ করছে এবং করতোয়া মাঠি কেটে ইট ভাটায় ব্যবহার করছে । এ ব্যাপারে সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন ময়েন বলেন, প্রশাসনের নজরদারী না থাকার কারণে নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। ভূমিদস্যুরা নদীর পাড়ের মাটি কেটে সমান করে চাষাবাদ ও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। এ ভাবে চলতে থাকলে ভৈরব ও করতোয়া নদী দুইটি অচিরেই হারিয়ে যাবে। এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা বলেন, যে সকল ব্যক্তিরা নদ-নদীর দু’পাশ থেকে মাটি কেটে ভরাট করে চাষাবাদ করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে অচিরেই নদ-নদী খনন কাজ ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন স্যারের নির্দেশনামতে শুরু করা হয়েছে। এছাড়াও কয়েক দিন আগে একটি জলাশয় দখলমুক্ত করে খনন করা হয়েছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে খননের কাজ হচ্ছে আমরা পর্যায়ক্রমে ভৈরব নদ ও করতোয়া খননের কাজ করা হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

সীমান্তে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ