চুয়াডাঙ্গায় বেড়েছে মশার উপদ্রব : অতিষ্ঠ পৌরবাসী
- আপলোড তারিখঃ
০৮-০৩-২০১৮
ইং
ফেরদৌস ওয়াহিদ: শীত শেষে বসন্তে চুয়াডাঙ্গায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। ঘরে-বাইরে সবখানেই মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ শহরবাসী। গত বছর চিকুনগুনিয়ার ভয়াবহতায় এ বছর মশা নিয়ে এক প্রকার আতঙ্কে রয়েছেন শহরের বাসিন্দারা। শীতের শেষে আবহাওয়া একটু উষ্ণ হওয়ায় মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। কারণ ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাস মশার স্বাভাবিক প্রজননের সময়। মশার ভনভনানিতে দিনে ও রাতে কোনো শান্তি নেই। অনেক বাসায় দিনের বেলাতেও ঘুমাতে গেলে মশারি টানাতে হচ্ছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মশার উপদ্রব অনেক গুণ বেড়ে যায়। মশার উপদ্রবে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হচ্ছে। জানা যায়, ডিসেম্বরের পর থেকেই ইরি-বোরো রোপণ শুরু হয়ে যায়। বর্তমানে বোরো ধানের চারা বেশ উঁচু হয়ে গেছে। ফলে বোরো জমির নোনা পানি থেকে মশার উৎপত্তি হয়ে মশা ছড়াচ্ছে চুয়াডাঙ্গা শহরসহ সর্বত্র। ফলে বাচ্চাদের লেখাপড়া, জনসাধারণের ঘুমে ও রাত্রীকালীন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও মশা বৃদ্ধির অন্যতম বিষয় হচ্ছে বর্জ্য। বর্জ্য অপসারণে আধুনিক ব্যবস্থা নেই। শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব পৌরসভার। বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে শহরবাসী মশার উপদ্রব থেকে অনেকটা রেহাই পাবেন। এই মশার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার কোমলমতি ছাত্রছাত্রী ও গর্ভবতী মায়েরা। মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের মধ্যে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত রোগ হচ্ছে মাইক্রোসেফালি, যা মশাবাহিত জিকা ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ভাইরাসের কারণে গর্ভের সন্তানের মস্তিষ্ক অপরিপক্ব থাকে এবং শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে আকারে ছোট হয়। বাংলাদেশেও সম্প্রতি জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। অথচ সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হচ্ছে, মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় প্রশাসন মশা নিধনের কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মশার উপদ্রব ও জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করেছেন সচেতন মহল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, এখন যে মশার উৎপাত চলছে, তাতে মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কম। তবে বৃষ্টি হলে এডিস মশার উপদ্রব বাড়তে পারে এবং সেক্ষেত্রে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ দেখা দিতে পারে। এদিকে, খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ড্রেনসহ শহরের বিভিন্ন স্থানের নর্দমাগুলোতে ময়লা আবর্জনার স্তূপ জমে থাকায় মশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর নিয়মিত মশা নিধনে কীটনাশক স্প্রে ব্যবহার না করা ও ড্রেন-নর্দমাগুলো পরিষ্কার না করায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ জনগণ। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বললে তারা জানায়, শীত শেষ হতে না হতেই হঠাৎ করেই যেভাবে মশার উপদ্রব বেড়েছে তাতে আমরা খুবই অতিষ্ঠ। সন্ধ্যার পর থেকেই পুরো শহর চলে যায় মশার দখলে। এমনকি দিনের বেলাও এ মশা থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছেনা।
কমেন্ট বক্স