জীবননগরে ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত : তিনজন অগ্নিদগ্ধ
- আপলোড তারিখঃ
০৮-০৩-২০১৮
ইং
জীবননগর অফিস: রান্না ঘরে আগুন ধরে গরু, ছাগল, করিমন গাড়িসহ ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন বাড়ির মালিকসহ তিনজন। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দু’জনকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২ টার সময় রান্না ঘর থেকে এ আগুনের উৎপত্তি হয়। এ আগুনে গোয়ালে থাকা দুইটি গরু ৫টি ছাগল ও ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে যায়। একই সাথে একমাত্র আয়ের উৎস করিমন গাড়িটিও ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যায়। অগ্নিদগ্ধ হয় বাড়ির মালিক রবিউল ইসলামসহ তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৫০) এবং ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৬)। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই জনকে জীবননগর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্য ভর্তি করে।
জীবননগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার যুগল বিশ্বাস ঘরে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হরিপুর গ্রামের সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে একটি বাড়িতে আগুন লেগেছ। ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘরের চুলা থেকে এই আগুনের উৎপত্তি। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাবে আসলে কি ভাবে আগুনের উৎপত্তি হয়েছে।
এদিকে অগ্নিকান্ডের সংবাদ শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আ. লতিফ অমল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা, সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন ময়েন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার চাউল, ডাউল, তেল, মোমবাতি প্রদান করেন তারা। এছাড়া ঘর তৈরি করার জন্য টিন প্রদানের আশ্বাস দেন এবং আহত ব্যক্তিদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকোস চিকিৎসার সার্বিক খোজ খবর নেন।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, আগুন লাগার বিষয়টি শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ভয়াবহ আগুনে যে ক্ষতি হয়েছে তা আসলেই দুঃখজনক। যতটুকু পারি আমরা উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে সাহায্য সহযোগিতা করব। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, সীমান্ত ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে হতদরিদ্র পরিবারের ঘরে যে আগুন লেগেছি এ সংবাদ শুনে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান মহাদয় ও সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তার যে পরিমানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা হয়ত দেওয়া সম্ভব নয়। তারপরও আমরা ইতোমধ্যেই তাকে শুকনো খাবারসহ কিছু উপকরন দিয়েছি। তা ছাড়া আমি এ বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারকে জানিয়েছি। এদিকে ঘরে আগুন লাগাই হতদরিদ্র কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
কমেন্ট বক্স