দুই শিশুর কবলে আরেক শিশু কন্যা পাশবিকতার শিকার
- আপলোড তারিখঃ
০৫-০৩-২০১৮
ইং
চুয়াডাঙ্গা আলুকদিয়ায় সামাজিক অবক্ষয় আর পারিবারিক শাসনের অবনতি
নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক অস্থিরতা, অপসংস্কৃতি, আকাশ সংস্কৃতি, পিতা-মাতার শাসনের অভাব, নীতি-নৈতিকতার চরম অবনতি দিন দিন গ্রাস করছে শিশুদের। একই সাথে শিশু কতৃক শিশু নির্যাতনের ঘটনাও সামাজিক অবক্ষয়ের চরম আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি অশ্লীলতার আগ্রাসনে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের অভাব ও সামাজিক অবক্ষয়ে ধর্ষণের ঘটনা আশংকাজনক হারে বাড়ছে দিন দিন। খেলার মাঠ, স্কুল-কলেজ এমন কী মায়ের কোলেও নিরাপদ নয় একটি শিশু। এ ধরণের সামাজিক অবক্ষয় আর পারিবারিক শাসনে গাফিলতির কারণে চুয়াডাঙ্গা সদরের আলুকদিয়া ইউনিয়নের মনিরামপুর মাস্টারপাড়ায় দুই শিশুর কবলে পড়ে এক ৯ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী কন্যা শিশু নির্মম পাশবিকতার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত দুই শিশু ওই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে ৩য় শ্রেণীর ছাত্র আবির হাসান আশিক (১২) ও আশাদুল হকের ছেলে শিহাব (১১) বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা হেফাজতে রয়েছে।
পাশবিকতার শিকার বাকপ্রতিবন্ধী কন্যা শিশুর পিতা জীবন মিয়া বলেন, ‘সারাদিন মায়ের সাথেই ছিল। প্রতিদিনের ন্যায় আমার মেয়ে বিকেলে পাড়ার ছেলে-মেয়েদের সাথে খেলা করতে যায়। কিছুক্ষণ পর কাদতে কাদতে বাড়িতে ফিরে এসে ইসারা-ইঙ্গিতে বোঝায় যে- খেলার মাঠ থেকে তাকে ফুসলিয়ে (খেলার ছলে) স্থানীয় তুলা উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যাক্ত একটি গোডাউনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে তার পরণের পোশাক খুলে তাকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। এতে তার গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। কে বা কারা জানতে চাইলে মেয়ে জানায়- দুলালের ছেলে আশিক ও আশাদুলের ছেলে শিহাব তাকে ওখানে নিয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে আশিকের পরিবারের সাথে কথা বলতে গেলে তারা আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের উপর চড়াও হয়। এতে আমি, আমার স্ত্রীসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হই। এ ব্যাপারে রাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে।’
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. আওলিয়ার রহমান বলেন, ‘কন্যা শিশুটির গোপনাঙ্গে ক্ষতস্থান দেখা গেছে। সেখান থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল; চিকিৎসার মাধ্যমে তা বন্ধ করা হয়েছে। সোমবার (আজ) মেডিক্যাল বোর্ড বসিয়ে শিশুটির বিষয়ে মতামত পেশ করা হবে এবং তার আলামত সংগ্রহ করা হবে।’
এদিকে অভিযোগ পেয়ে রাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আমির আব্বাস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযুক্ত দুই শিশু আশিক ও শিহাবকে আটক করে থানা হেফাজতে নেন। তবে এখনই তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা হচ্ছে না বলে জানা যায়।
কমেন্ট বক্স