রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দামুড়হুদায় সুপারকে মারধর, হাজিরা জালিয়াতি ও প্রাইভেট বাণিজ্য

দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই অভিযোগে তদন্ত কমিটি
  • আপলোড তারিখঃ ০৮-১১-২০২৬ ইং
দামুড়হুদায় সুপারকে মারধর, হাজিরা জালিয়াতি ও প্রাইভেট বাণিজ্য

দামুড়হুদা উপজেলার কুনিয়াচাঁদপুর সিদ্দীকীয়া দাখিল মাদ্রাসা ও দর্শনা থানাধীন শোলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্টকে কক্ষে আটকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মারধরের অভিযোগ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ও শ্রেণিকক্ষে অর্থের বিনিময়ে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগে এ কমিটি গঠন করা হয়।
অভিযোগ দুটি ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটিতে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে পৃথক তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুনিয়াচাঁদপুর সিদ্দীকীয়া দাখিল মাদ্রাসার ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিকাইল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ রোববার (৮ নভেম্বর) থেকে কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে।


অন্যদিকে, শোলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা তাসলিমা নাসরিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কুনিয়াচাঁদপুর সিদ্দীকীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্টকে কক্ষে আটকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ, সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন এবং শিক্ষক ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় নারী শিক্ষক সাবিকুন নাহারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা শিক্ষা অফিস ও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


অন্যদিকে, শোলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেনের সহযোগিতায় সহকারী শিক্ষিকা মোছা. শিরিনা খাতুন বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।


এছাড়া সহকারী শিক্ষক মো. জামিল হোসেনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থীকে মাসিক ৩০০ টাকা করে নিয়ে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে মাসে প্রায় ৯ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য ও শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি শিক্ষা প্রশাসনের নজরে আসার পর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।


স্থানীয় সচেতন মহল তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা এবং শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এখন তদন্তে অভিযোগগুলোর কী সত্যতা পাওয়া যায় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার