রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন

সংহতি ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
  • আপলোড তারিখঃ ০৮-১১-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর  ও ঝিনাইদহে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সমাবেশ, আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আলোচনা সভা, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, প্রশাসনের অফিসার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।


চুয়াডাঙ্গা:
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, দেশাত্মবোধক গানের আসর ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নহার। শোভাযাত্রায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।


পরে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সংলগ্ন ডিসি সাহিত্য মঞ্চে আলোচনা সভা, দেশাত্মবোধক গানের আসর ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ডিসি কালেক্টরেট মসজিদের পেশ ইমাম কারি কবির আহমেদ। গীতা পাঠ করেন বড়বাজার সার্বজনীন পূজা মন্দিরের পুরোহিত শ্রী প্রহ্লাদ চক্রবর্তী। এ সময় দিবসটি উপলক্ষে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।


জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি. এম. তারিক-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. আবেছ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আলোচনা সভা শেষে দেশাত্মবোধক গানের আসর ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্যদিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।


চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভা:
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিশেষ কল্যাণ সভা ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার। এসময় তিনি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিবসের মূল চেতনা হলো জাতীয় ঐক্য, সংহতি, দেশপ্রেম ও পারস্পরিক সহযোগিতা। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।


পুলিশ সুপার আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত, দক্ষ ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সব সময় আন্তরিক থাকবে।


সভা শেষে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনের মধ্যদিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিনহাজ-উল-ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ্, জেলার সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ডিআইও-১, কোর্ট ইন্সপেক্টর, টিআই (প্রশাসন), পুলিশ লাইন্সের আরআই এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যরা।


চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির কর্মসূচি:
চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্যাপন করেছে জেলা বিএনপি। গতকাল শনিবার বেলা ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আয়োজনে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথমে সাহিত্য পরিষদ চত্বরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর সাহিত্য পরিষদের অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৭ নভেম্বরের ইতিহাস ও গুরুত্ব এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান নিয়ে বক্তব্য দেন উপস্থিত বক্তারা। পরে বেলা ১১টায় সাহিত্য পরিষদের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।


আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন জেলা ছাত্রদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু সুফিয়ান। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন, তার অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আয়োজনে আজকের আলোচনা সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত না থাকার পরও রাষ্ট্রীয় ও দলীয়ভাবে নেওয়া কর্মসূচি সফলভাবে পালন করতে জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসনীয়।


প্রধান বক্তার বক্তব্যে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু বলেন, একটি দেশের শক্তি শুধু তার ভূখণ্ডের ওপর নির্ভর করে না; বরং দেশের মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার মধ্যদিয়েই একটি জাতির প্রকৃত শক্তি প্রকাশ পায়। এ দিনের অঙ্গীকার হোক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।


চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ উর নাহার রিনা, জেলা আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আ. স. ম. রউফ, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন এবং সদস্যসচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন।


এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এম. এ. তালহা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহজাহান খান, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা পারভীন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিন, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক আরিফ হোসেন জোয়ার্দার সোনা, জেলা যুবদলের সহসভাপতি তৌফিকুজ্জামান তৌফিক, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সালমা জাহান পারুল, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরীন পারভীন, জেলা ওলামা দলের সভাপতি মওলানা আনোয়ার হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হাসান টুটুল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, সদস্যসচিব হাফেজ মওলানা মাহাবুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুব হক মহাবুব, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন হাসান কাকন, সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হানুল কাজল ও আবদুল্লাহ আল মামুন মেহেবুব, সদস্যসচিব ও সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মহলদার ইমরান রিন্টু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব বিপুল হাসান হাজি, সদস্যসচিব আজিজুর রহমান আজিজুল, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এম. এ. হাসান, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রাজা, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রুবেল হাসান, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাহাবুব হোসেন, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ রানা, সদস্যসচিব মাজেদুল আলম মেহেদী, সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান শেখন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালাম, আলোকদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান আখতার, শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রুবেল, পদ্মবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রায়হান কাজল, মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান লিটন, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খাজা মহিউদ্দিন প্রমুখ।


আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য, দেশের ইতিহাসে এ দিবসের গুরুত্ব এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনূর আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার মহেশ^র কুমার মণ্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমীন আক্তার, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা মুজাইন নাবিলা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নওয়াব আলী।


এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দ্দার, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিণ্টু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলা উদ্দিন, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার ইমরুল হক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান রানা, কুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ফেরদৌসী খানম, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম, আলমডাঙ্গা ব্যায়ামাগারের সভাপতি ইকবাল হোসেন মিয়া, সদস্য আব্দুর রশিদ মুঞ্জু, কথাসাহিত্যিক পিন্টুর রহমান ও প্রভাষক খাইরুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভা শেষে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলায় ১-০ গোলে জয়লাভ করে উপজেলা প্রশাসন।


হাটবোয়ালিয়া:
আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজিবুল হক রাজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন লাড্ডু। প্রধান বক্তা ছিলেন ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি টিপু সুলতান।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক একেএম জাহিদ হোসেন জিন্টু, ইউনিয়ন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, উপজেলা যুবদলের সদস্য সেলিম রেজা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাবেক ইউপি সদস্য শাহাবুদ্দিন, সাবেক যুবদল সভাপতি শহিদুল হক ঝণ্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুছদ্দিন ও বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য তরিকুল ইসলাম। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


আলোচনা সভা শেষে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সাজিবুল হক রাজনের একটি লিখিত বক্তব্যের কপি অতিথি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা একরামুল হক।


দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১০টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালির মধ্যদিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। র‌্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দামুড়হুদা উপজেলা অডিটরিয়াম হলে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাত, কৃষি অফিসার কৃষ্ণা সরকার, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসেল মিয়া, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মণ্টু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আবুল হাশেম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বাচ্চুসহ উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের অফিসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা সভায় বক্তারা ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় ঐক্য, সংহতি এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে স্থানীয় শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


দর্শনা:
দর্শনায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দর্শনা থানা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দর্শনা রেলবাজারের শাহরিয়ার শুভ মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাত।
দর্শনা থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শরিফ উদ্দিন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন থানা বিএনপির সহসভাপতি মো. হারেজ উদ্দিন ও মো. আব্দার আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুল ইসলাম যুদ্ধ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহিদুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার এবং দপ্তর সম্পাদক মো. আসলাম উদ্দিন।


এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শফিউল্লাহ শফি, কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ, নেহালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফরজ আলী, বেগমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আশাবুল হক, তিতুদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী খলিলুর রহমান, গড়াইটুপি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মহব্বত আলী, কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবু, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিবর রহমান, নেহালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এবং বেগমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দর্শনা থানা যুবদলের সদস্যসচিব মাজেদুর রহমান মিলন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিক, কৃষক দলের আহ্বায়ক আশরাফুল হক, ছাত্রদলের সদস্যসচিব ফরহাদ হোসেন, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক মুফতি মাওলানা নাজমুল হোসাইন এবং জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল হান্নানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দর্শনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জালাল উদ্দিন লিটন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান মোহন।


জীবননগর:
জীবননগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১০টায় জীবননগর উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর শরীফ ফাহাদ, জীবননগর থানার ওসি (অপারেশন) অনুপ দাস, উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল জব্বার, উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন অফিসার মো. জহুরুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের অফিসার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।


সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবির, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান আলী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন ময়েনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।


আলোচনা সভায় বক্তারা ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।


এদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় জীবননগরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এসময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবির, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন শফি, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন ময়েন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির ইকবাল ঠান্ডু, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হযরত আলী, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ ও সদস্যসচিব সানোয়ার হোসেন।


এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু তালেব, বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার ও শ্রমিক নেতা আয়ুব আলী, সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন, জেলা ছাত্রদলের নেতা শ্রাবণ, জীবননগর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রিংকুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।


অপরদিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জীবননগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীবননগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. ইমরুল কাদির। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের চিফ ইন্সট্রাক্টর কাজী আবু সাঈদ নাজমুস সাদাত, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে দিবসটির ইতিহাস, চেতনা ও গুরুত্ব তুলে ধরতে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, জাতীয় চেতনা ও ঐক্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস ও জাতীয় চেতনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।


উথলী:
জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসায় ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় মাদ্রাসার হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্টের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় সংহতি রক্ষায় এ দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম ও সততার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান। আলোচনা সভা শেষে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্টসহ অন্যান্য শিক্ষক। সবশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং মাদ্রাসার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ছানোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মহিউদ্দিন।


আন্দুলবাড়ীয়া:
জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কেডিকে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, ফাতেহা পাঠ, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত।


গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় আন্দুলবাড়ীয়া কলেজের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজ পরিচালনা এডহক কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের কৃতী সন্তান সেলিম আকতার খান (মিণ্টু)।


বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলেজ পরিচালনা এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মোল্লা মো. মনিরুজ্জামান (সুজন) এবং কলেজের পৌরনীতি ও সুশাসন বিভাগের প্রভাষক জামিল হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম আকতার খান মিন্টু ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তৎকালীন সেনাপ্রধান, মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার, বীর উত্তম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।


আলোচনা শেষে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনায় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এসময় আন্দুলবাড়ীয়া কলেজের সব প্রভাষক-প্রভাষিকা, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক আবুল খায়ের দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আলমগীর কবির।


অপরদিকে, সকাল ৯টায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে বাজারস্থ অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আজিম খানের নেতৃত্বে এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, যুগ্ম সম্পাদক ও সুপার ফাইভ নেতা রফু উদ্দীন, যুবদল নেতা শমসের আলী, এসএম জাভেদ লালমিয়া, জাহিদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


এছাড়া আন্দুলবাড়ীয়া কলেজ, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, শাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া আশরাফিয়া আলিম মাদ্রাসা, পাঁকা দারুস সালাম দাখিল মাদ্রাসা, কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কেডিকে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগেও পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


মেহেরপুর:
‘করব কাজ, গড়ব দেশ; আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে অবিরাম’- এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে মেহেরপুরে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। গতকাল শনিবার বিকেলে শহরের ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সমবেত হন। সমাবেশ শেষে জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাবেদ মাসুদ মিল্টন। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাবেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, ‘৭ নভেম্বরের চেতনা হচ্ছে স্বাধীনতাকে রক্ষা করা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। সেই চেতনাকে সামনে রেখেই সিপাহী-জনতার বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল এবং দেশে একটি ঐক্য তৈরি হয়েছিল। সেই ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করেছিলেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর সেই অবদানের ধারাবাহিকতায় আজ আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বসবাস করছি।’


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, জেলা জাসাসের সদস্যসচিব এ বাকাবিল্লাহ এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজমুল হাসান মিণ্টু। এছাড়া প্রবীণ নেতা আলমগীর খান ছাতু ও হাফিজুর রহমান হাফিসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।


এদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ‘৭ নভেম্বরের চেতনায়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের এলাকা প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।


পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আতাউর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি সংকটময় সময়ে জিয়া পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে দেশ পরিচালনা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে এ পরিবারের অবদান রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কঠিন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন ড. তারিক আজিজ। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অফিসার-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।


    অপরদিকে, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা. আব্দুল্লাহ আল-আমিন।


অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মো. ইকরামুল হাসান, অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. আব্দুল হামিদ, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর কাজী আশরাফুল আলম ও সহযোগী অধ্যাপক মোহা. মিরাজ উদ্দীন। এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস লিমা ও জান্নাতুল ফেরদৌস স্মৃতি। পরে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। আলোচনা সভায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


ঝিনাইদহ:
দীর্ঘ ১৮ বছর পর অত্যন্ত উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল শনিবার জেলা প্রশাসন ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে পৃথকভাবে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আরেকটি বিশাল আনন্দ র‌্যালি বের করা হয়, যেখানে দলীয় নেতা-কর্মীরা আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়েন।
র‌্যালি ও মতবিনিময় সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসটি যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বিএনপি সরকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে।


১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ইতিহাস তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, ওই দিনের ঘটনাটি ছিল মূলত ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী ও সাধারণ জনতার এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সহযোগিতা করলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ওপর নানাভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করা হয় এবং জনগণ তা মেনে নেয়নি। তিনি আরও বলেন, একাত্তরের পরে ৭৫ পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস রয়েছে। তাঁর মতে, পঁচাত্তরের আগের সময়টিতে যেমন ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল, তেমনি চব্বিশের আন্দোলনেও ফ্যাসিবাদের দোসররা গণহত্যা চালিয়েছে।
৬৯, ৯০ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পূর্বের সব আন্দোলনকে ছাড়িয়ে গেলেও বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র প্রকৃত ‘বিপ্লব’ সংগঠিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর, যার নেতৃত্ব দিয়েছিল তৎকালীন সিপাহী ও জনতা। ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এতদিন জাতিকে মিথ্যা ইতিহাস ও ভুল বয়ান শোনানো হয়েছে; এখন সময় এসেছে সঠিক ও সত্য ইতিহাস জানানোর।

তিনি আরও বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যেমন দেশের বড় পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল, তেমনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গঠনের এই যাত্রায় দেশের সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে সহযোগিতা করতে হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার