জীবননগর সীমান্তে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টাকালে বিএসএফের গুলিতে মনিরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। পরে ত্াকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে তিনি জীবিত নাকি মারা গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মনিরুল ইসলাম হরিহরনগর গ্রামের লিয়াকত ইসলাম ওরফে নেংটের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে মনিরুল ইসলামসহ সাতজন সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি এলাকায় যান। এসময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের দেখতে পেয়ে লক্ষ্য করে গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়েন। এতে মনিরুলের পায়ে গুলি লাগে এবং পিঠের বিভিন্ন স্থানে রাবার বুলেটের আঘাত লাগে। একপর্যায়ে তিনি আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় সঙ্গে থাকা অন্যরা পাশের খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত মনিরুলকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় মনিরুলের সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা হলেন- কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিণ্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়ার (৪০)।
হরিহরনগর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য টিটু জানান, সন্ধ্যার পরপরই সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের কাছ থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে তিনি জানতে পারেন, মনিরুল ইসলামকে বিএসএফ আহত অবস্থায় আটক করে নিয়ে গেছে। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, ঘটনাটি তাঁরা শুনেছেন। তবে প্রশাসনিকভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সীমান্তে গুলির একটি ঘটনার কথা শুনেছি। তবে এখনো আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসেনি। বিস্তারিত তথ্য পেলে বিষয়টি আপনাদের জানানো হবে। আমরা ভারতীয় বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। যোগাযোগ সম্পন্ন হলে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হবে।’
জীবননগর অফিস