দামুড়হুদা উপজেলার কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। জলাবদ্ধতার কারণে বাঁশের সাঁকো দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। সীমানাপ্রাচীর ও খেলার মাঠ না থাকাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
২০০৫ সালে ৩৩ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ১১৬ নম্বর কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুনামের সঙ্গে চলছিল এর শিক্ষা কার্যক্রম। শিশু শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকায় বিদ্যালয়ের সামনের মাঠটি দূর থেকে দেখলে পুকুর বলে মনে হয়।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাঠে জলাবদ্ধতা থাকে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী রাখতে শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় বিদ্যালয়টি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। নেই খেলার মাঠও। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত সমাবেশ ও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় একজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছয়টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন পাঁচজন শিক্ষক।
এদিকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার কারণে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের কার্পাসডাঙ্গা ও শহরের কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নানা সমস্যার কারণে কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই বছরের ব্যবধানে ১৩০ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দর্শনা অফিস