‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে মানববন্ধন, জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, রোড শো, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচি থেকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টায় শহরের বড় বাজার চৌরাস্তা মোড়ে মানববন্ধন ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চুয়াডাঙ্গা সার্কেলের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আইন মেনে যানবাহন চালানো এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পরে জেলা শহরের বিভিন্ন সড়কে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। বড় বাজারের শহীদ হাসান চত্বর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে তিনি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসন চত্বরে যান। এসময় যানবাহনের চালকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সচেতন করেন এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করেন। সড়ক ব্যবহারকারীদের আইন মেনে চলা এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
লিফলেট বিতরণকালে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত মানুষ আহত ও নিহত হচ্ছেন। এতে অসংখ্য পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার ঘটনা অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়-ক্ষতিকেও ছাড়িয়ে যায়। তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালক ও পথচারী- সবাইকে সচেতন হতে হবে। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো।
তিনি বলেন, সড়ক পারাপারের সময় পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে চালকদেরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে যানবাহন চালাতে হবে, যাতে অসতর্কতা বা আইন অমান্য করার কারণে কোনো প্রাণহানি না ঘটে। চালকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রত্যেক চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যদিয়েই সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।
এদিকে, জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে শহরে রোড শো অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচিতে শহরের বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী চালকদের সড়ক নিরাপত্তা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
এসময় আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; চালক, যাত্রী, পথচারীসহ সমাজের প্রত্যেকেরই এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব রয়েছে। চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ করতে হবে এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যদিকে, যাত্রী ও পথচারীদেরও সড়ক পারাপারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক মূল্যবান প্রাণ ঝরে যায়, বহু পরিবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল বন্ধ করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত- আইন মেনে চলা, সচেতনভাবে সড়ক ব্যবহার করা এবং সবার জন্য নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা।
বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) লিটন বিশ্বাসের সঞ্চালনা সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাজিদ হাসান, চুয়াডাঙ্গা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন মুক্তা, নিরাপদ সড়ক চাই চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক আকবর এবং ট্রাফিক পুলিশের এডমিন আমিরুল ইসলামসহ অন্যরা।
আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে চুয়াডাঙ্গা সড়কে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা চার বাসচালকের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক