আলমডাঙ্গায় এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে কোচিং সেন্টারের পরিচালকসহ দুজনকে আটক করে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। পরে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আলমডাঙ্গার পাইকপাড়া ওয়েলফেয়ার একাডেমি কেয়ার কোচিং সেন্টারে অভিযান চালান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ্বর কুমার মন্ডল এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিকাইল হোসেন। এসময় কোচিং সেন্টারের পরিচালক নীলচাঁদ হোসেন ও কুষ্টিয়ার রাজু আহমেদকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ইংরেজি প্রথম পত্রের টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, প্রশ্নের সঙ্গে গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার পাইকপাড়া ওয়েলফেয়ার একাডেমি কেয়ার কোচিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষা না দিয়ে হল থেকে বেরিয়ে আসে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে শিক্ষার্থীরা ওই পরীক্ষা বাতিল করে অন্য দিন পরীক্ষার নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের নিকট আবেদন করেন।
এরপর শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টারের সামনে মানববন্ধন করে। তারা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে দুই পরীক্ষার প্রশ্নের মিল থাকার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং কোচিং সেন্টারটি বন্ধের দাবি জানায়। পরে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের নজরে আসে।
অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কোচিং সেন্টারের পরিচালক নীলচাঁদ হোসেন জানান, তিনি কুষ্টিয়ার রাজু আহমেদের কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ইংরেজি প্রথম পত্রের একটি প্রশ্ন সংগ্রহ করেছিলেন। সেই প্রশ্ন দিয়েই গত ২৩ অক্টোবর কোচিং সেন্টারের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয় ।
এ ঘটনায় নীলচাঁদ হোসেন ও রাজু আহমেদকে আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার শর্তে তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকা দিয়ে তাদের আত্মীয় স্বজন নিয়ে গেছে।
ভ্রাম্যমান প্রতিবেদক,আলমডাঙ্গা