শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মুন্সীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে দর্শনা ডিলাক্স

নিহত ৩ জনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়
  • আপলোড তারিখঃ ২৪-১০-২০২৬ ইং
মুন্সীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে দর্শনা ডিলাক্স

মুন্সীগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে পানিভর্তি খাদে পড়ে দর্শনা ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস। এ দুর্ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার, হেলপার ও এক যাত্রীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। নিহত তিনজনেরই বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়। এদিকে, নিহত বাসের হেলপার নওমুসলিম আব্দুল্লাহর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাঁর দাফন নিয়ে হিন্দু বাবা-মামা ও মুসলিম স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাঁকে দাফন করা হয়। গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া (বিএডিসি সড়ক) এলাকার বাসিন্দা বাসটির সুপারভাইজার রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫), দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মিলন কুমারের ছেলে বাসটির হেলপার নওমুসলিম আব্দুল্লাহ এবং একই উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে সালাউদ্দিন (২৪)। নিহত সালাউদ্দিন ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় ওয়ালটনে চাকরি করতেন। কর্মস্থলে যোগ দিতে তিনি গতকাল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধার করা ১১ জনকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ ছাড়া পাঁচজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনায় নিহত একজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত অপর দুজনের মধ্যে একজন বাসটির হেলপার এবং অন্যজন যাত্রী সালাউদ্দিন।

এদিকে, নিহত নওমুসলিম আব্দুল্লাহর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাঁর দাফন নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। আব্দুল্লাহর হিন্দু বাবা ও মামা তাঁকে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করতে চান। অন্যদিকে, তাঁর মুসলিম স্ত্রী হানিফা খাতুন স্বামীকে মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের দাবি জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। পরে আব্দুল্লাহর মুসলিম হওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁর স্ত্রীর কাছে থাকায় শেষ পর্যন্ত মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাঁকে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা পূর্বপাড়া কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। নওমুসলিম আব্দুল্লাহর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তাঁর দাফন নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সৃষ্ট মতবিরোধ স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন হৃদয় (৩০), শাহিন আক্তার (৩২), নূর ইসলাম (৫৫), ইমরান (২৭), গিলবাড সরকার (৫৫), তরিকুল ইসলাম (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪০), মিরাজুল ইসলাম (২৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), অনিফিন (১৭), সন্দীপন বসু (৪০), ইকরাম (৪০), রায়হান (২১), হাসিব (২২), তিশা (২৪) ও বোরহান উদ্দিন (৫৫)। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




কমেন্ট বক্স