জীবননগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের প্রাণকেন্দ্র দোয়েল চত্বরের তিন রাস্তার মোড়সহ দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন প্রধান সড়কে সাতটি পৃথক গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার) নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী। দুর্ঘটনা রোধ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দুলবাড়ীয়া বাজারসংলগ্ন আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং সন্তোষপুর-আন্দুলবাড়ীয়া প্রধান সড়কের প্রবেশপথে অবস্থিত আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ব্যস্ত এ সড়ক দিয়ে বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি মিশুক, সিএনজি, ইজিবাইক, ত্রিচক্রযান, মোটরসাইকেল, নছিমন, করিমন, আলমসাধু, লাটাহাম্বার ও ট্রাক্টরসহ স্থানীয় যানবাহনও চলাচল করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক চালক বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানোর কারণে এসব এলাকায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। বিশেষ করে বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষ এবং প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের জন্য সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দোয়েল চত্বর, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সাতটি স্থানে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হলে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি পথচারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও সমাজসেবক সেলিম আকতার খান মিন্টু, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. আলী হোসেনসহ ভুক্তভোগী এলাকাবাসী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের উদ্যোগ নেবে।
প্রতিবেদক আন্দুলবাড়িয়া