আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার হাফিজ মোড় এলাকায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি পরিবারকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির প্রধান গেটে তালা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী ওহিদুজ্জামান লেন্টু পৌর শহরের হাফিজ মোড় এলাকার মৃত হেলাল উদ্দিন মিয়ার ছেলে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডালিয়ারা পারভীন শিলা ও তাঁদের কন্যাসন্তান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সঙ্গে পারিবারিক ও জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। এরই মধ্যে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের বাড়িতে এসে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তাঁদের বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।
ওহিদুজ্জামান লেন্টু অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ভাই মৃত আক্তারউর জামানের সাবেক স্ত্রী সুবর্ণা মুস্তারিন রুপা, তাঁর ভাই কবির (বেলগাছি), যিনি জার্মান প্রবাসী এবং রুপার বর্তমান স্বামী রিংকু, তিনিও জার্মান প্রবাসী। তাঁদের সঙ্গে আরও ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি বাড়িতে এসে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে গালিগালাজ এবং হামলার চেষ্টা করেন।
লেন্টুর দাবি, এসময় আলমডাঙ্গা থানার পুলিশও সেখানে উপস্থিত ছিল। পরিস্থিতি খারাপ হলে তাঁরা একটি কক্ষে ঢুকে পড়েন। পরে ওই কক্ষের দরজা এবং বাড়ির প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বারবার অনুরোধ করলেও গেটের তালা খোলা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি, আমার স্ত্রী ও কন্যাসন্তান বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জমি-জমা ও পারিবারিক বিরোধ চলছে। বিষয়টি আদালতেও বিচারাধীন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের ঘরে তালা লাগানো হলো- এটা কোন আইনি প্রক্রিয়া, তা আমরা বুঝতে পারছি না।’
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত ও স্বাভাবিক চলাচলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তাঁরা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁদের স্বাভাবিক চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে আলমডাঙ্গা থানা চত্বরে প্রতিবেদককে দেখে অভিযুক্ত সুবর্ণা মুস্তারিন রুপা হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, ‘নিউজ করবি তো, নিউজ কর। কত বড় সাংবাদিক হয়েছিস দেখে নেব। আমি চুয়াডাঙ্গায় থাকি, আমাকে তুই চিনিস না। অনেক সাংবাদিক আমার হাতের মুঠোয় থাকে।’
এসময় তাঁর সঙ্গে থাকা পাঞ্জাবি পরা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি প্রতিবেদককে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘নিউজ করবি তো নিউজ কর। বাড়ি ফিরবি কোন রাস্তা দিয়ে, তোর পরিচয় আমি জোগাড় করছি। তারপর তোর সঙ্গে দেখা হবে।’
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আদালতে জমি সংক্রান্ত মামলা চলমান থাকা অবস্থায় পুলিশের উপস্থিতিতে একটি পরিবারকে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁদের প্রশ্ন, আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো পক্ষকে অবরুদ্ধ করার সুযোগ আছে কি না।
এদিকে, অভিযুক্ত সুবর্ণা মুস্তারিন রুপা ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যদের বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক হোসেন আলী বলেন, ‘আদালতে মামলা চলমান- এ বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। সেখানে আমি গিয়েছিলাম। তবে তালা দেওয়ার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। আমি পাশের মার্কেটে বসেছিলাম।’
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন, ‘আদালতে মামলা চলমান- এ বিষয়টি পুলিশকে প্রথমে জানানো হয়নি। থানায় একটি পক্ষ অভিযোগ করেছিল যে, তারা ঘরে ঢুকতে পারছে না। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে ঘরে তালা লাগিয়ে পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি আমাদের জানা নেই।’
নিজস্ব প্রতিবেদক