পোশাক কারখানা ল্যাভেন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যান এক ব্যবসায়ীর গাড়ি থেকে নগদ এক কোটি টাকা চুরি করে পালানোর ঘটনায় মূল অপরাধী গাড়িচালক জাহিদ হাসান ও ঝিনাইদহের এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় আসামিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত অর্থের মধ্যে নগদ ৯৭ লাখ টাকা, নতুন ক্রয়কৃত আসবাবপত্র এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- অভিযুক্ত গাড়িচালক জাহিদ হাসান, তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তার (২৪) এবং জাহিদের মামা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাঞ্চননগর গ্রামের দাউদ হোসেনের ছেলে মো. আক্তারুজ্জামান (৫১)। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ক্যাডেট ক্লাবের সামনে অবস্থানকালে ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন লিমিটেডের কারখানার শ্রমিকদের বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য রাখা ব্যাগভর্তি এক কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দেন চালক জাহিদ। চুরির পরপরই তিনি চীনা মালিকের মোবাইল ফোনে ইংরেজিতে একটি আবেগঘন খুদে বার্তা পাঠান।
তাতে তিনি লেখেন, “আমি দুঃখিত স্যার, আমাকে ভুলে যাবেন। আপনার গাড়িটি ‘লে ডি অর কফি শপ’-এর পার্কিংয়ে রেখে গেছি। আপনার প্রতি আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। ওপরওয়ালা জানেন, আমি জীবনে কারও বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি; তবে পরিস্থিতি আমাকে এটি করতে বাধ্য করেছে। বেঁচে থাকলে আপনার টাকা ফেরত দেব। বিশ্বাস ভঙ্গ করার অনুশোচনায় আমি এখন কাঁদছি।” এ ঘটনায় ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন লিমিটেডের প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আকরামুল ইসলাম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর গাজীপুর শিল্প পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে চালক জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে নগদ ৮৬ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঝিনাইদহে অভিযান চালিয়ে মামা আক্তারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারসহ ১ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং জাহিদের স্ত্রী নাসিমা আক্তারের বাসা থেকে আরও ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদ স্বীকার করেছেন, চুরি করা টাকার মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ইতোমধ্যে খরচ করা হয়েছে। সেই টাকা দিয়ে তিনি ঝিনাইদহে নতুন বাসা ভাড়া নেন, ঘরের আসবাবপত্র কেনেন এবং ৩৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি নতুন স্মার্টফোন ক্রয় করেন। পুলিশ অভিযানকালে ওই আসবাবপত্র ও ফোনটি জব্দ করেছে।
গাজীপুরের শিল্প পুলিশের সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রোববার বিকালে জানান, ‘অভিযান চালিয়ে চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার ও ৯৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আসামিদের এবং উদ্ধারকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ অপরাধের সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে বাকি টাকা উদ্ধারে আমাদের জোর তৎপরতা অব্যাহত আছে।’
ঝিনাইদহ অফিস