বুধবার, ২৬ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

শিক্ষিকাকে ডাব খাইয়ে সোনার গহনা লুট

আন্তঃজেলা অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্য গ্রেপ্তার
  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৮-২০২৬ ইং
শিক্ষিকাকে ডাব খাইয়ে সোনার গহনা লুট

চলন্ত বাসে সুকৌশলে চেতনানাশক ডাবের পানি খাইয়ে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটেরঘটনায় আন্তঃজেলা অজ্ঞান পার্টির দুই দুর্ধর্ষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর ও মাগুরায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা দামোদর গ্রামের আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে দুলাল হাওলাদার (৪০) ওরফে ‘মলম দুলাল’ এবং মাগুরা সদর উপজেলার বোগিয়া গ্রামের হাসেম খানের ছেলে মো. তিলক খান (৪৪)। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত ২৯ জুন যশোর থেকে ‘শাপলা পরিবহনে’ চড়ে কোটচাঁদপুরে ফিরছিলেন এক মাধ্যমিক শিক্ষিকা। বাসটি কোটচাঁদপুরের এলাঙ্গী বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে অজ্ঞান পার্টির এক সদস্য তাকে চেতনানাশক মেশানো ডাবের পানি পান করতে দেয়। পানি পানের কিছুক্ষণ পরই ওই শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।


পরবর্তীতে বাস গন্তব্যে পৌঁছালে তার স্বামী গাড়ির ভেতরে স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় চক্রটি শিক্ষিকার পরিহিত সোনার চেইন, আংটি ও খাড়ু খুলে নিয়ে চম্পট দেয়। ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৯, ধারা-৩২৮/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোড)।


লুটপাটের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর তদন্তকারী দল ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর গাজীপুরের টঙ্গী এবং মাগুরা সদরে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা ‘মলম দুলাল’ ও তার সহযোগী তিলক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।


সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের দায়িত্বরত এএসআই ইখলাচুর রহমান মিঠু জানান, ‘প্রযুক্তির নিখুঁত বিশ্লেষণে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মাগুরা ও গাজীপুরে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার দুই অপরাধীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় চলন্ত বাস ও যাত্রীবাহী যানবাহনে বিষাক্ত দ্রব্য প্রয়োগ করে মালামাল লুটের একাধিক মামলা রয়েছে।’


ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান জানান, ‘সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ রাখতে এবং অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অজ্ঞান পার্টিসহ যেকোনো সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

প্লাস্টিক দূষণ রোধে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেমিনার