শুক্রবার, ২১ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, শপথ আজ

বিএনপির এই নেতা পেয়েছেন ২৫৫ ভোট, অলি আহমদের প্রাপ্ত ভোট ৮৮, ভোট দেননি ছয় এমপি
  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৮-২০২৬ ইং
২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, শপথ আজ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্ব্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ  পেয়েছেন ৮৮ ভোট। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দুপুর ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। ভোট গণনা শেষে বিকাল সাড়ে ৫টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের ফল ঘোষণা করেন। জয়ের পর সংসদে বিপুল করতালিতে অভিনন্দিত হয়েছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি মির্জা ফখরুল। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, বিএনপির মহাসচিব এবং শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসতে যাচ্ছেন তিনি। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

যেভাবে ভোট: আওয়ামী লীগের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করে বঙ্গভবন ছাড়েন। এর প্রায় চার সপ্তাহ পর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সাড়ে তিন দশকের মাথায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বৃহস্পতিবার ভোট দেন সংসদ সদস্যরা।  রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একানব্বইয়ের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থী ছিলেন। ফলে ভোট আয়োজন করতে হয় আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে। কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে দুপুর ২টায় ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের নির্দেশিকা তুলে ধরেন। এর পরপরই ভোটদান শুরু হয়।

প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নিজের আসন থেকে উঠে পাশে বসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে ব্যালট বাক্সের পথ ধরেন। ঘড়ির কাঁটা যখন ২টা ১১ মিনিট, তখন সংসদ নেতা নিজের ব্যালট পেপার ফেলেন ব্যালট বাক্সে। এই সময়ে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এর পরপরই ভোট বাক্সে ব্যালট পেপার ফেলেন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময়ে সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। প্রায় ৮ মিনিট সংসদ কক্ষে অবস্থানের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান ভোট দেন ২টা ১৯ মিনিটে। ব্যালট পেপার জমা দিতে রাখা হয় তিনটা বাক্স। ভোটগ্রহণ শেষে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। ফল ঘোষণার সময় মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রীর পাশে নিজের চেয়ারে বসেছিলেন। তাকে বিজয়ী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হাতের ইশারায় সালাম দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও দাঁড়িয়ে যান ও করমর্দন করেন। এ সময় মির্জা ফখরুলকে লাল গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনের পর সবাইকে সালাম দেন মির্জা ফখরুল।

এ নির্বাচনের শুরুর আনুষ্ঠানিকতা সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। আর সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন। তবে ভোট পড়েছে ৩৪৩টি। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সভা কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। রুমিন ফারহানাসহ ছয় জন যে কারণে ভোট দেননি: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ ছয় জন ভোট দেননি। এর মধ্যে বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিত্সাধীন। বিএনপির সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক ও খেলাফত মজলিসের আবুল হাসানও ভোট দিতে আসেননি। আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করছেন বলে তার দলের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের জানিয়েছেন। জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোট দিতে দেখা যায়নি। আদালতের আদেশের কারণে চট্টগ্রাম-৬ আসনের ফল প্রকাশ স্থগিত রয়েছে। একই সঙ্গে ঐ আসনের বিএনপির আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। ভোট চলাকালে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোটদানে বিরত থাকবেন। কারণ হিসেবে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় এই নির্বাচনে ভোট দেবে না ইসলামী আন্দোলন। তবে পরে ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তৃণমূল থেকে বঙ্গভবনে: বিএনপির তৃণমূল পর্যায় থেকে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মির্জা ফখরুল উঠে আসেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দমন-পীড়নের মধ্যে সংগ্রামে অবিচল এই নেতা ছিলেন দলের ময়দানের কান্ডারি। গণঅভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এবার তিনি ‘মহামান্য’ হয়ে যাচ্ছেন বঙ্গভবনে। ছাত্রজীবনে বামপন্থায় আস্থা রাখা এই নেতা টানা দেড় দশক ধরে বিএনপির মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতা থেকে চার দশক আগে রাজনীতিতে আসা এই নেতার রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা। ‘সজ্জন রাজনীতিক’ হিসেবেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাম ধারার রাজনীতিতে নাম লেখান অর্থনীতির এই ছাত্র। তিনি ১৯৬০ এর দশকে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। মির্জা ফখরুল সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে উঠে আসেন এবং ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন। রাজনৈতিক কারণে সে সময় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল।

অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে শিক্ষাকতায় যোগ দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন ১৯৭২ সালে। এরপর বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক পদে এবং ইউনেসকো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তত্কালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন। এরপর ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে নেমে পড়েন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন।

বাবার পথ ধরে রাজনীতিতে : মির্জা ফখরুলের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী এলাকায়। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন এবং মা মির্জা ফাতেমা আমিন। বাবা ছিলেন আইনজীবী। তিনি দুই বার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। ছিলেন এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য। বাবার মতো রাজনীতির পথ ধরলেও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেন আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপে। সেখান থেকে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি ছেড়ে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে যোগ দেন। মির্জা ফখরুল ১৯৯০ সালে যোগদান করেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। তারপর ধাপে ধাপে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব পদে উঠে আসেন।

২০১১ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। এরপর ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলটির মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবারের ভোটাভুটির আগ পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়া বিএনপিকে অসীম ধৈর্যে সংগ্রামে অটল রেখেছেন তিনি। ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে লন্ডন চলে যান, সেখান থেকেই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে মাঠ সামলেছেন মির্জা ফখরুল। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব। বহু মামলা লড়ার পাশাপাশি তাকে তিন দফা কারাগারেও যেতে হয়েছে।

সরকারে এলেন যেভাবে : বিএনপিতে যোগ দেওয়ার প্রায় এক দশক পর ২০০১ সালে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত সরকারে কৃষি এবং বিমান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হন। বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও সারা দেশে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে সংসদে যাননি তিনি, যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটিই তার। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন, বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে গেছেন। দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ মির্জা ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে তাদের সংসার।

বঙ্গভবন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন : বঙ্গভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার বিদায় অনুষ্ঠানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এদিন বেলা ১টা ২৫ মিনিটে বঙ্গভবন ছাড়েন তিনি। বঙ্গভবনে থেকে পাঠানো এক ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গভবন থেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর বের হচ্ছে। এর আগে বঙ্গভবনে কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে বিদায় জানান। বিদায়ের আগে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকশ দল বিদায়ি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি সালাম গ্রহণ করেন এবং উপস্থিত সবার সঙ্গে বিদায়ি শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। বঙ্গভবনের বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রপতির সামরিক ও বেসামরিক সচিব এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা। বিদায় নেওয়ার সময় হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সরকারের সাফল্য কামনা করেন। এরপর তিনি কঠোর প্রটোকলের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবন এলাকা ত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই এমপি ও মন্ত্রী পদ শূন্য হবে : চিফ হুইপ : আজ রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমপি ও মন্ত্রী পদ শূন্য হবে বলে জানিয়েছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের প্রেস বিফ্রিংকালে এ কথা বলেন তিনি। চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণের পর তিনি আর এমপি বা মন্ত্রী নন। তখন থেকে তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি। শূন্য আসনে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন : দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল এক শুভেচ্ছাবার্তায় অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে।

এছাড়া অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ও এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব ও অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল করিম খান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দ র্যালি ও মিষ্টি বিতরণ : ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ। মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ র্যালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের বিভিন্ন এলাকা। জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা একে অন্যকে মিষ্টি খাওয়ান এবং আনন্দ প্রকাশ করেন। পরে একটি আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।



কমেন্ট বক্স