চুয়াডাঙ্গায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সভার শুরুতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিএম তারিক উজ জামান গত জুন মাসের জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপরাধের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন।
সভায় জানানো হয়, জুন মাসে দস্যুতা সংক্রান্ত একটি মামলা আলমডাঙ্গা থানায় দায়ের হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি, আলমডাঙ্গায় একটি, দামুড়হুদায় দুটি এবং দর্শনা থানায় দুটিসহ মোট ছয়টি মামলা হয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত দুটি মামলা আলমডাঙ্গা থানায় এবং নারী নির্যাতনের ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদরে তিনটি, আলমডাঙ্গায় তিনটি, দামুড়হুদায় একটি ও জীবননগরে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একই সময়ে পুলিশ বিভাগ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৬৬টি এবং অপমৃত্যুর ২৪টি মামলা রেকর্ড করেছে। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত জুন মাসে ৫৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৩৮টি মামলায় মোট ৮ লাখ ৬ হাজার ৯৩০ টাকা অর্থদণ্ড এবং ৬৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী পুলিশ ২৬৮টি প্রসিকিউশন দাখিল করে এবং ১০ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করে।
সভায় কমিটির সদস্যরা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বাল্যবিবাহে সম্পৃক্ত কোনো কাজীর বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে তার লাইসেন্স বাতিলের বিষয়েও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
সভায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে সচেতনতামূলক ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কিন্তু এখনো গ্রেপ্তার হয়নি, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি দামুড়হুদা উপজেলার ছটেঙ্গা মাঠে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, কয়েকদিন আগে চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় দুই আসামির মধ্যে একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। অপর আসামিকেও দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালচক্র প্রতিরোধ এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে অধিকাংশ সেবা অনলাইনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। তাই দপ্তরের বাইরে কোনো দালালচক্রের তৎপরতা দেখা গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পলিথিনের ব্যবহার কমাতে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে না।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মারুফ সরোয়ার বাবু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা অ্যানি, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক