মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ, প্রাণহানি ৫১

সাত জেলায় এখনো পানিবন্দি কয়েক লাখ পরিবার, বিশুদ্ধ পানির সংকট
  • আপলোড তারিখঃ ১৩-০৭-২০২৬ ইং
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ, প্রাণহানি ৫১

দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে সাত জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৫১ জন এবং আহত হয়েছে ৩৯ জন। গতকাল রোববার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সাত জেলা হলোÑখাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন। দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন। এসব জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সরকারি সহায়তায় চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।


মন্ত্রণালয়ের জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলার ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা আংশিকভাবে জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার। জেলায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। সেখানে ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ২১ হাজার ৯০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৩৯ হাজার ৫০৬টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭। স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাসহ মোট নিহত হয়েছে ২৮ জন, যার মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছে ২৪ জন, যার মধ্যে পাঁচ জন রোহিঙ্গা। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। জেলায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছে।


বান্দরবানের সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ১২ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮ হাজার ৩৫০। সেখানে নিহত হয়েছেন ছয় জন এবং আহত হয়েছে দুজন। রাঙ্গামাটির ৯টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ১ হাজার ৪৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৫২৪। সেখানে তিন জন নিহত হয়েছেন। খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


জেলায় ১ হাজার ৭৩টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪১৭। সেখানে একজন আহত হয়েছে। মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৭ হাজার ৩০৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৬ হাজার ৫৪৪। সেখানে একজন নিহত হয়েছে। হবিগঞ্জের তিনটি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৬ হাজার ৪৪৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৮ হাজার ১৪০। 


কক্সবাজারে আরো দুই প্রাণহানি :
শনিবার দিনে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও রাত এবং রোববার ভোর থেকে থেমে থেমে আবারও শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টিপাত। বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে দুর্ভোগ বাড়ছেই। যেসব এলাকায় বন্যার পানি কিছুটা নেমে গিয়েছিল, সেখানে আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে। দুর্গত মানুষগুলো খাবার এবং পানীয় জলের সংকটে পড়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিও বেড়েছে পাহাড়ধসের। ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরো কয়েক দিন মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।


চট্টগ্রামে পানিবন্দি লাখো মানুষ, বাড়ছে রোগব্যাধি:
বন্যা ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেড়েছে। এছাড়া গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগিও বন্যার কারণে মারা গেছে ও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। জেলা সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি, চন্দনাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি লাখো মানুষ। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে বিশুদ্ধ পানির উৎস নলকূপগুলো। এতে মানুষ খাবারের পানির সংকটে পড়েছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

দামুড়হুদার কুড়ুলগাছিতে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর