দর্শনায় যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে স্বামী মজনুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন আলতা বানু (৩৬) নামের এক গৃহবধূ। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার স্বামী।
মামলার বাদী আলতা বানু জানান, ২০২২ সালের ২২ মার্চ মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ছিতাব আলীর ছেলে মজনুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি মজনুর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার অভিযোগ, বিয়ের পর কিছুদিন সংসার ভালোভাবে চললেও পরে স্বামী তার কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকেন। যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় গত ১৩ জুন ২০২৬ তাকে মারধর করা হয়। কিল-ঘুষি ও চুলের মুঠি ধরে মারধরের ফলে তিনি আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। দুই দিন চিকিৎসা শেষে ১৪ জুন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান।
আলতা বানুর দাবি, ১৫ জুন তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতের আশ্রয় নিয়ে গত ২৮ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর সিআর-২৩৫/২৬।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নানা ধরনের প্রলোভনও দেখানো হচ্ছে। এমনকি তার কর্মস্থল আন্দিচাঁদসীর মালিক ডা. হান্নানের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া স্বামীর পরিবারের সদস্যরাও তাকে গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মজনুর রহমান বলেন, ‘আমি কোনোদিন তাকে মারধর করিনি, তার কাছে কোনো যৌতুকও দাবি করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।’
দর্শনা অফিস