চুয়াডাঙ্গা শহরের কোর্টপাড়ায় অবস্থিত ভিক্টোরিয়া জুবিলি (ভি জে) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে (চাঁদমারি মাঠ) প্রাচীর ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে মাঠের পূর্ব পাশে প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রাচীর নির্মাণ হলে পাশের অন্তত ১০টি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা।
কোর্টপাড়ার এই মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে ভি জে স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলাধুলা, স্থানীয় শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া আয়োজন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় বিভিন্ন মেলারও আয়োজন হয় এখানে। প্রতিদিন বিকেলে অনেক মানুষ মাঠে হাঁটতে ও অবসর কাটাতে আসেন। মাঠের পাশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন খাবারের দোকানও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই থেকে চুয়াডাঙ্গা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে প্রকল্পের ঠিকাদার হাজী আব্দুল খালেক মাঠের পূর্ব পাশে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বর্তমানে শ্রমিকরা পিলারের জন্য গর্ত খনন করছেন। প্রকল্প অনুযায়ী চার ফুট উঁচু প্রাচীরের ওপর আরও দুই ফুট লোহার গ্রিল স্থাপন করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রাচীর নির্মাণ হলে মাঠসংলগ্ন প্রায় ১০টি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণে গত ৫ জুলাই তারা চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন আনিসুজ্জামান মল্লিক, মিলন শাহ, সোহরাব হোসেন, শামীমা আক্তার, নাছরিন সুলতানা, ইয়াসমিন বেগম, মোর্তুজা মোহাম্মদ মিল্টন, আওরঙ্গজেব বেল্টু, আলমসহ আরও কয়েকজন।
ভুক্তভোগী আনিসুজ্জামান মল্লিক বলেন, ‘২০০৫ সালে সবেদ দারোগার ওয়ারিশদের কাছ থেকে তিন কাঠা জমি কিনে বাড়ি করেছি। এখন হঠাৎ করে ছয় ফুট উঁচু প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি হলে আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুবিচার চাই।’ আরেক বাসিন্দা চাঁদ সওদাগর বলেন, ‘১৯৯৭ সাল থেকে এই মাঠ দিয়ে যাতায়াত করছি। প্রাচীর নির্মাণ হলে শুধু চলাচলই নয়, জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিস কিংবা অ্যাম্বুলেন্সও আমাদের বাড়িতে পৌঁছাতে পারবে না। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
প্রতিবেশী আলমগীর কবীর রোকন বলেন, ‘প্রাচীর দিতে হলে পুরো মাঠ ঘিরেই দেওয়া উচিত ছিল। শুধু পূর্ব পাশে প্রাচীর নির্মাণ করে কয়েকটি পরিবারকে কার্যত অবরুদ্ধ করা হচ্ছে। মাঠের উন্নয়ন প্রয়োজন, কিন্তু মানুষের চলাচলের অধিকার ক্ষুণ্ন করে নয়।’
এ বিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার হাজী আব্দুল খালেকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। চুয়াডাঙ্গা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মাঠের চারদিকে নয়, শুধুমাত্র পূর্ব পাশে প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। সেখানে চার ফুট প্রাচীরের ওপর দুই ফুট লোহার গ্রিল থাকবে। পাশাপাশি তিন ফুট প্রশস্ত একটি ওয়াকওয়ে নির্মাণ করে দুই পাশের রাস্তার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। জেলা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা অফিস এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা।’
সমীকরণ প্রতিবেদক