বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০ হালনাগাদ বিষয়ক মতবিনিময়

প্রকল্পে বাইপাস সড়ক না থাকায় ক্ষোভ অংশীজনদের
  • আপলোড তারিখঃ ০৮-০৭-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০ হালনাগাদ বিষয়ক মতবিনিময়

চুয়াডাঙ্গায় সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের ‘হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০’ হালনাগাদ বিষয়ক অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত প্ল্যানে ২০৪০ সাল পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোনো বাইপাস সড়ক প্রকল্প না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার সুধীজনরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগ (সওজ) চুয়াডাঙ্গার আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী।


সভার শুরুতে আপডেট রোড মাস্টার প্ল্যানের (চুয়াডাঙ্গা অংশ) উপস্থাপন করেন চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম। উপস্থাপনায় তিনি জানান, হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০ পরিকল্পনাধীন চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগের প্রকল্পের মধ্যে ৩টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কুষ্টিয়া (বটতৈল)-পোড়াদহ-আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের ৪২ কিলোমিটার (চুয়াডাঙ্গা অংশ ২৫ কিলোমিটার) সড়কে ১০ হাজার ৭৩২ মিলিয়ন টাকা ব্যয় করা হবে এবং আগামী ৫ বছরের মধ্যে উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে।


চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা-জীবননগর-কোটচাঁদপুর-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩০ কিলোমিটার সড়কে ৪০০ মিলিয়ন টাকা ব্যয়ে আগামী ১০ বছরের মধ্যে কাজ শুরু হবে। এছাড়া আমতলি-তৈলটুপি-আলমডাঙ্গা জেলা মহাসড়কের ৩৬ কিলোমিটার (চুয়াডাঙ্গা অংশ ৯ কিলোমিটার) সড়কে ৯০০ মিলিয়ন টাকা ব্যয়ে আগামী ২০ বছরের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।


সভায় আরও জানানো হয়, উক্ত পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো জাতীয় মহাসড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধি, যানজট কমানো এবং দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করা। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করাসহ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়াও প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় ৪৯৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করা, প্রায় ১০২ কিলোমিটার মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীত করা এবং সারা দেশে সম্ভাব্য ১১টি এক্সপ্রেসওয়ে নির্ধারণ করা।


এসময় উপস্থিত অংশীজনরা হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০-এ চুয়াডাঙ্গার জন্য কোনো বাইপাস সড়ক প্রকল্প না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, তাদের একটাই মূল দাবি- উক্ত প্রকল্পে চুয়াডাঙ্গার জন্য বাইপাস সড়ক অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনাদের মতামত আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেব। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করব।’
সভায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, রাস্তা যেগুলো তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলো কিছুদিনের মধ্যেই ভেঙে যাচ্ছে। আমার বিবেচনায় যে রোড ক্যাপাসিটিতে রাস্তা তৈরি করা হয়, তার চেয়ে বেশি লোড নিয়ে যানবাহন চলাচল করায় সড়ক দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইন্ডিয়া এবং ইউএস মেথড অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট হাইওয়ে অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন অফিসিয়ালস- এই দুইটি মেথডে হয়ত কাজ করি। তাহলে বর্তমান সড়ক ও বাস্তব পরিবহন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সড়কগুলো তৈরি করা হচ্ছে কি না এবং শহরের ভেতরে বড় বড় যানবাহন চলাচলের জন্য রিং রোড বা বাইপাসের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?’ জবাবে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, ২০৪০ সালের মাস্টার প্ল্যানে এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।


সভায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলায় অনেক রাস্তা ভাঙা। জেলার ওভারপাস এখন গলার কাঁটা। ওভারপাসের ওই রাস্তায় কোনো যানবাহন পাওয়া যায় না। এছাড়াও রেলবাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘অফিসে বসে থাকলে হবে না, মাঠে নামতে হবে। পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তবেই সমস্যা সমাধান দ্রুত সম্ভব।’ এসময় বক্তারা বাংলাদেশের হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০ বিষয়ে নানা মতামত ব্যক্ত করেন।


সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল আমীন, শ্রমিক নেতা এম জেনারেল, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ. কে.এম. মঈনুদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকবৃন্দ।



কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরে জেলা প্রশাসকের কারাগার ও বিএডিসির বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র পরিদর্শন