বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন, সামরিক বাহিনী, পুলিশ, স্থানীয় সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে ধারাবাহিক পরিবর্তন আনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকারিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সচিব পর্যায় থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশন প্রশাসক, জনপ্রশাসন, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনে একাধিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই পুনর্বিন্যাস কেবল নিয়মিত বদলি নয়; বরং সরকারের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ তিন সচিবকে নিজ পদ থেকে সরিয়ে গতকাল সোমবার পৃথক প্রজ্ঞাপন দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা সচিবেরা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন। এছাড়া একই দিনে আরও নয়জন সচিব ও সিনিয়র সচিবের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চুক্তি বাতিল করা সচিবরা হলেন- পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোখলেস উর রহমান, এস এম আকমল হোসেন, কাইয়ুম আরা বেগম, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরীফা খান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মো. সাইদুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরী, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সিনিয়র সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ।
ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ:
রাজধানী ঢাকার দুটিসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মো. আব্দুস সালামকে। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মো. শফিকুল ইসলাম খানকে। খুলনা সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সিলেট সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. সাখাওয়াত হোসেন খান। আর গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক করা হয়েছে মো. শওকত হোসেন সরকারকে। মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪-এর ধারা ২৫(ক) এর উপধারা (১) এর অনুবৃত্তিক্রমে এসব ব্যক্তিদের করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নামের পাশে বর্ণিত সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো। এতে আরও বলা হয়, নিয়োগ দেওয়া প্রশাসকরা স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৪- এর ধারা ২৫ক-এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন। ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছাবে কিনা- এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারি কিছু নিয়ম-কানুন ও প্রথা আছে। কোথাও মেয়াদ শেষ হয়েছে, কোথাও শেষ হওয়ার পথে। সব বিষয় সমন্বয় করে সরকার সঠিক সময়ে নির্বাচন দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। তবে নিঃসন্দেহে এই নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
ইসিতে বড় রদবদল:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সারা দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানা পর্যায়ের ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনের জনবল ব্যবস্থাপনা শাখার সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই বদলির নির্দেশনা জারি করা হয়। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানায় কর্মরত ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। বদলি করা কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১ মার্চের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তারা ওইদিন অপরাহে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরাসরি অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন। ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তীসময়ে এটিই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া সবচেয়ে বড় বদলির উদ্যোগ। সামনে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ বড় পরিসরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবেই মাঠ পর্যায়ের এই রদবদলকে দেখা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীতে রদবদল:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা হয়েছে। নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতিতে চিফ অব জেনারেল স্টাফ, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং ডিজিএফআই মহাপরিচালকের পদে পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র। আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান নতুন চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। সাবেক সিজিএস লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম সম্প্রতি অবসরে গেছেন। চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হয়েছেন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ-এর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বর্তমান পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হচ্ছেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী। তাকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করে সেনা সদর থেকে ডিজিএফআই সদর দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাফিজুর রহমান পদোন্নতি পেয়ে মেজর জেনারেল হয়েছেন। তাকে যশোরে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে। বর্তমান জিওসি মেজর জেনারেল জেএম ইমদাদুল ইসলামকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট পদে বদলি করা হয়েছে। আর বর্তমান কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসানকে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে।
প্রশাসনে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা:
সচিবালয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, জনপ্রশাসনে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আসবে। সরকার গঠনের আগেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং শপথের পর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদে রদবদল হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনা আগামী দুদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি, পদায়ন ও বদলি হবে। ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ' বিনির্মাণে যোগ্যতাকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। নতুন সরকার গঠনের আগেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া সরে যান। নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হয়েছেন এবিএম আবদুস ছাত্তার, যিনি একসময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব ছিলেন।
পুলিশে পরিবর্তনের আভাস:
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে বড় ধরনের রদবদল হতে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের মহাপরিদর্শক থেকে শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, র্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন মহাপরিচালক (র্যাব) বিশেষ শাখা প্রধান, অতিরিক্ত আইজিপি এবং ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট প্রধানসহ আরও বিভিন্ন মেট্রোপলিটনের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, এসপিসহ বড় বড় পদে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। এই ধরনের রদবদল প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা বাড়ানোর অংশ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কিছু পরিবর্তন তো আসবেই। পুলিশকে জনগণের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে এবং ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন করে আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন:
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের ৪৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদত্যাগ করেন। পরে অন্তর্বর্তী সরকার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ শীর্ষ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেয়, যাদের বড় অংশ বিএনপিপন্থি শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কয়েকজন নিয়োগ পেয়েছেন জামায়াতঘনিষ্ঠ তালিকা থেকেও। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ পাওয়া ৫৬ জন উপাচার্যের মধ্যে বেশিরভাগই বিএনপির শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয়। দলটির নেতা রুহুল কবির রিজভী আগেই দাবি করেছিলেন, দেশের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতপন্থি ভিসি রয়েছেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রকৌশল ও বিজ্ঞানভিত্তিক বহু বিশ্ববিদ্যালয়েও এমন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। নিয়োগ প্রজ্ঞাপন পর্যালোচনায় জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-সহ কয়েকটিতে সাময়িক নিয়োগ দেওয়া হলেও বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তবে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনে তা বাতিল করতে পারেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক গবেষণায় দাবি করা হয়, অভ্যুত্থান-পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব ছিল এবং জনচাপও ভূমিকা রেখেছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন