রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঈদের বাজার ধরতে মহেশপুর সীমান্তে সক্রিয় একাধিক মাদক সিন্ডিকেট

  • আপলোড তারিখঃ ২২-০২-২০২৬ ইং
ঈদের বাজার ধরতে মহেশপুর সীমান্তে সক্রিয় একাধিক মাদক সিন্ডিকেট

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ:
ঈদের বাজার ধরতে ঝিনাইদহের ভারত সীমান্তঘেঁষা জনপদে সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাচালান চক্র। প্রতিদিন মহেশপুরের সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ করছে। তবে ফেনসিডিলের পরিবর্ত মদ ও ইয়াবা ট্যাবলেট বেশি ঢুকছে। মাদক আটক ও অবৈধ পারাপারের এমন একাধিক ঘটনার তথ্য দিয়েছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)।


গতকাল শনিবার বিকালে ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান জানান, মহেশপুর ব্যাটালিয়নের আওতাধীন গয়াসপুর উত্তরপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৪৫ বোতল ভারতীয় মদ। একই দিন মাধবখালী এলাকার সীমান্ত পিলার ৭১/এস-এর কাছাকাছি এলাকা থেকে জব্দ করা হয় ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। অভিযানের নেতৃত্ব দেন হাবিলদার শিশির কুমার হালদার।


বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে সীমান্ত পিলার ৬০/৩৯-আর সংলগ্ন এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় ১১ বাংলাদেশি আটক করা হয়। ধুর পাচার করে সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারিরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সীমান্তের চোরাচালান ঘাটগুলো অঘোষিত ইজারা দেওয়া হয়েছে। এই টাকার ভাগ রাজনৈতিক নেতা, বিজিবি ও পুলিশ পাচ্ছে বলে অভিযোগ।


সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন সময়ে অন্তত ২১ ধরনের মাদকদ্রব্য দেশে প্রবেশের তথ্য রয়েছে। আসন্ন ঈদের বাজার ধরতে সেই চেষ্টা করছে চোরাকারবারিরা। বিজিবির হাতে ধরা পড়ছে কিছু চালান, তবে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বড় অংশ থেকেই যাচ্ছে অধরা।


মাদক চোরাচালানের কৌশলেও এসেছে পরিবর্তন। বড় চালানের বদলে ছোট ছোট পার্সেলে বিভক্ত করে সীমান্তের ফসলি জমি, বাগান কিংবা গ্রামীণ পথ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি থাকা সত্ত্বেও পুরো নেটওয়ার্ক ভাঙা কঠিন হয়ে পড়ছে।


সীমান্তের সূত্রগুলো জানায়, ভারতে ফেনসিডিল কারখানাগুলো বন্ধ করার ফলে এখন সেদেশে বাড়িতে বাড়িতে ফেনসিডিল তৈরি করা হচ্ছে। সেই ফেনসিডিলের মানও খারাপ। বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকার কারণে মাদকসেবীরা বিকল্প হিসেবে উইন কোরেক্স সিরাপ সেবন করছে।


মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান জানান, সীমান্তে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মাদক ও অবৈধ পারাপার রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।



কমেন্ট বক্স