রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

রমজানে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিতরণ, হকদারদের কাছে পৌঁছাতে হবে

  • আপলোড তারিখঃ ২২-০২-২০২৬ ইং
রমজানে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিতরণ, হকদারদের কাছে পৌঁছাতে হবে


রমজানে পণ্যমূল্য চড়া হয়। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যে এর প্রভাব বেশি। এতে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ চাপে পড়ে। সরকার সাশ্রয়ী মূল্যে কিছু নিত্যপণ্য বাজারে বিক্রি করে স্বস্তি দিতে চায়। টিসিবি বরাবরের মতো দেশব্যাপী শহরাঞ্চলে এবারো রমজানের শুরু থেকে ট্রাকসেল শুরু করেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে। ৪৫০টি ট্রাকে সারা দেশে শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে ছয়দিন পণ্য বিক্রয় হচ্ছে। এ দিকে ঢাকার ২৫টি স্পটে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ডিম, দুধ ও গরুর গোশত বিক্রি শুরু হয়েছে। কম আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ ভর্তুকি মূল্যের পণ্য কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে স্পটগুলোতে। এতে প্রকৃত দাবিদারদের অনেকে স্বল্পমূল্যে পণ্য কেনার এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রমজানে বেশি চাহিদার ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা এবং খেজুর টিসিবি বিক্রি করছে। ঢাকা চট্টগ্রামসহ ৫৫টি জেলা শহরে বেশ কিছু কেন্দ্রে এটি একটি প্যাকেজ আকারে, কোথাও নির্ধারিত সীমার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বাজারের তুলনায় কিছুটা সাশ্রয়ী হওয়ায় নিম্নবিত্তের মানুষ ট্রাকসেলের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।  বিবিএসের জরিপ বলছে, প্রায় দুই শতাংশ দরিদ্র বেড়ে যাওয়ায় শহরাঞ্চলে এখন ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্রদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। টিসিবির লাইনে শুধু এই দরিদ্ররা নন; নিম্ন ও মধ্যবিত্তরাও দাঁড়াচ্ছেন। তারা স্বল্প দামে পণ্য কিনে আর্থিক অসচ্ছলতার চাপ লাঘব করতে চান। এতে একেবারে দরিদ্রদের জন্য নেয়া এ ট্রাকসেল প্রকল্প লক্ষ্যচ্যুত হয়। রমজানে টিসিবির মাধ্যমে ২৩ হাজার টন পণ্য বিতরণ করা হবে শহরের ৩৫ লাখ মানুষের কাছে। প্রয়োজনের তুলনায় এটা অত্যন্ত অপ্রতুল। দেখা যায়, টর্গেটকৃত জনগোষ্ঠী এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে যান। ভর্তুকি দিয়ে পণ্য বিক্রি করা সমস্যার আসল সমাধান নয়। নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রেখে মূল্যস্ফীতি কমানোর মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে হবে। তাহলে দরিদ্রদের ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্তরা হাজির হবেন না। দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করলে ট্রাকসেল কার্যক্রম আরো দায়িত্বশীলতার সাথে চালানো যায়। তাহলে দুস্থ, অভাবী মানুষ বঞ্চিত হবেন না। এ জন্য বিতরণকারী কর্তৃপক্ষকে উদাসীনতা ও গাফিলতি ছাড়তে হবে। তাই সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে।



কমেন্ট বক্স