মরমী কবি, বাউল সম্রাট ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সুরসাধক খোদা বকস শাহের (সাঈজী) ৩৫তম প্রয়াণ দিবস আজ বুধবার (১৫ জানুয়ারি)। দিবসটি উপলক্ষে তাঁর নিজ গ্রাম আলমডাঙ্গা উপজেলার জাহাপুরে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য বাউল মিলন মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনে দেশের বিশিষ্ট বাউল শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
খোদা বকস শাহ ১৯২৮ সালে আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের যাহাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবকাল থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। যাত্রাদল ও অপেরায় কাজ করার মধ্য দিয়েই তাঁর সংগীতজীবনের সূচনা। পরবর্তীতে শুকচাঁদ শাহের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে তিনি লালন ভাবধারার বাউল সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন।
দীর্ঘ চার দশক ধরে তিনি বাউল সংগীত সাধনায় নিজেকে নিবেদিত রাখেন। লালন, রামলাল পাল, কৃষ্ণ ক্ষ্যাপা, গুরুচাঁদ গোসাইসহ বহু বাউলের গানে তাঁর ছিল অসাধারণ পারদর্শিতা। তিনি প্রায় এক হাজার গান রচনা করেন এবং স্মৃতিতে ধারণ করতেন সাড়ে সতেরো শতাধিক গান।
খোদা বকস শাহ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করেছেন। ১৯৮৩ সালে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে লালন সংগীতের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৫ সালে তিনি বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ লাভ করেন। তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯১ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়।
১৯৯০ সালের ১৫ জানুয়ারি তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। বর্তমানে তাঁর মাজার প্রাঙ্গণে প্রতিবছর তাঁর জন্ম ও প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ভক্তকুল ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। তাঁর সুযোগ্য সন্তান লতিফ শাহ পিতার স্মৃতিকে ধারণ করে আজও বাউল ও লালন সংগীত চর্চায় সক্রিয় রয়েছেন।
আলমডাঙ্গা অফিস