মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াবড়িয়া গ্রামের ইলিয়াস হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা ময়নাল হোসেন এবং তার স্ত্রী সুখিয়ারা খাতুন দেড় মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামিরাও রয়েছে অধরা। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওয়াহিদের অপসারণ এবং বিচার দ্রুততার দাবি তুলেছে নিহতের পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, গত ৮ মে ভোরে সাবেক ইউপি সদস্য ময়নাল হোসেনের ছেলে মাদকাসক্ত সবুজ আহমেদ ছুরিকাঘাতে তার চাচা শ্বশুর ইলিয়াস হোসেনকে হত্যা করে। নিহতের ভাই মাবুদ হোসেন বাদী হয়ে সবুজ, তার বাবা ময়নাল ও মা সুখিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ঘটনার দিন স্থানীয়রা ঘাতক সবুজকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও অন্য আসামিরা আজও অধরা।
ঘাতক সবুজের স্ত্রী সালমা খাতুন বলেন, ‘সবুজ জেল থেকে বের হলে আমাকে ও আমার সন্তানকে খুন করবে। সবুজের পরিবার সব জানলেও চুপ ছিল। শাসন করলে সে ঘাতক হতো না।’ কাথুলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ফেরদৌস ওয়াহেদ বেল্টু বলেন, ‘এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে, না হলে কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
নিহতের ভাই আব্দুল জাব্বার বলেন, ‘অভিযুক্তরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ পুলিশ কিছু করছে না। হত্যা ঘটনায় সবুজের সঙ্গে তার বাবা ও মা পরোক্ষভাবে জড়িত।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবুজের বাবা কালো টাকার জোরে তদন্তকে প্রভাবিত করছে।’ স্থানীয় বিএনপি নেতা রহিদুল ইসলাম মাস্টার বলেন, ‘সবুজ একজন কুলাঙ্গার জামাই। তার কারণে সালমা নির্যাতিত হয়েছে। তার ফাঁসি চাই।’
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওয়াহিদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, ‘ঘাতক সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
প্রতিবেদক গাংনী