রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
সংলাপে রাজনৈতিক উত্তাপ: এক টেবিলে ২০ দল

কেউ চায় রোডম্যাপ, কেউ সুষ্ঠু নির্বাচন

  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৫-২০২৫ ইং
কেউ চায় রোডম্যাপ, কেউ সুষ্ঠু নির্বাচন


প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় দেশের ২০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুটি ধাপে হওয়া এ বৈঠকে কেউ চেয়েছেন জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ, কেউ চেয়েছেন সুষ্ঠু নির্বাচন। আগের দিন শনিবার রাতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা।


প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় গতকাল সন্ধ্যা ৬টার কিছু সময় পর প্রথম দফার বৈঠক শুরু হয়। প্রথম দফায় এ বৈঠকে অংশ নেন ১১টি দলের প্রতিনিধি। তারা হচ্ছেন- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রধান উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, আমার বাংলা (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।


এদিকে সন্ধ্যা ৭টায় দিকে আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হয়। দ্বিতীয় দফায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ বৈঠকে অংশ নেন ৯টি দলের প্রতিনিধি। তারা হচ্ছেন- হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জাতীয় নির্বাহী পরিষদের মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার ও ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি।


নানা ক্ষোভ ও হতাশা থেকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করার কথা ভাবছেন, এমন খবরে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সব মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলগুলোর আগ্রহে প্রধান উপদেষ্টা তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আগের দিন শনিবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে বিএনপি বলেছে, বিতর্কিত উপদেষ্টাদের পদত্যাগের ব্যাপারে লিখিত বক্তব্যে দিয়েছে। এছাড়া সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়।


জামায়াত নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কারের রোডম্যাপ চাইলেও কোনো সময়ের কথা বলেনি। তবে তারা আগের মতোই নির্বাচনের আগে সংস্কারের ভাবনা জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কাছে। অন্যদিকে এনসিপি জুলাই গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপের সঙ্গে জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছে। এনসিপি বলেছে, আওয়ামী লীগের সময়ের সব নির্বাচন আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।


মাহমুদুর রহমান মান্না : যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা শুধু চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। দেখতে হবে কোনটা সংস্কার না করলেই নয়। সংস্কারের ক্ষেত্রে যদি সময়ক্ষেপণ হয় তবে নির্বাচন বিলম্ব হবে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, এপ্রিলের পর কোনোভাবেই আর সময় গড়াবে না। মান্না বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, তিনি কোনোভাবেই চান না ক্ষমতা আরো দীর্ঘায়িত করতে। উনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আর বাড়াতে চান না।


মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি, জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট নস্যাৎ করার প্রক্রিয়া চলছে। আরেকটা প্রসঙ্গে আমরা বলেছি, রাজনৈতিক ঐক্য ইউনিফর্মিটি আর ইউনিটি এক বিষয় না। আমরা এটাও বলেছি, জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যদি আমরা সংস্কার কাজে এগিয়ে নিয়ে যাই, তাহলে সেটাই হবে আসল সংস্কার। আমরা যেসব সংস্কার করতে পারব না, এরকম ধারণা আমাদের মধ্যে না থাকাই উচিত।


জোনায়েদ সাকি : প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছি। আমরা বলেছি, আগামী বছর জুনের মধ্যে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হলে রাজনৈতিক দলগুলো এবং বিনিয়োগকারী উভয়ই প্রস্তুতি নিতে পারবে। সাকি বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে সরকার বলেছেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে। উনারা বারবার বলেছেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে নির্বাচন হবে, এর একদিনও বাইরে যাবে না। তবে আমরা বলেছি, এ বিষয়ে যদি একটি সুনির্দিষ্ট সময় বলা যায়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো একটি প্রস্তুতি নিতে পারবে।


নুরুল হক নুর : ছাত্র প্রতিনিধি দুই উপদেষ্টাকে অপসারণ করা বা তাদের বুঝিয়ে পদত্যাগের দিকে যাওয়া জন্য সরকারকে বলেছেন বলে জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের নুরুল হক নুর বলেন, আমাদের আন্দোলনকারী ছাত্র নেতৃত্বের মধ্যে যারা উপদেষ্টা রয়েছেন, তারা যেহেতু একটি দল করেছেন, বাইরে এ কথাটি প্রচলিত আছে, এ দলটি সরকারের সুবিধা পাচ্ছে এবং সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করছে। দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এনসিপির দুজনকে অপসারণ করা বা তাদের বুঝিয়ে পদত্যাগের দিকে যাওয়া সরকারের দিক থেকে একটি ভালো দিক হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত