জীবননগর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ
- আপলোড তারিখঃ
২৩-০৫-২০২২
ইং
সমীকরণ প্রতিবেদক: জীবননগর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামের জসিম উদ্দিনের (ছদ্মনাম) প্রথম স্ত্রী ২০২০ সালে মারা গেছেন। ২০২১ সালে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। সম্প্রতি তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর সম্মতিতে তাঁর সন্তানদের কিছু জমি দান করার জন্য জীবননগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের সঙ্গে কথা বলেন। সরকারি ওয়েবসাইটে জমি দানের জন্য হেবাদলিল বাবদ খরচ মাত্র ১ হাজার ১০ টাকা দেখানো হলেও তাঁর কাছে চাওয়া হয় ২২ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. সেলিম (ছদ্মনাম) বলেন, ‘নিকট আত্মীয়দের জমি দান করতে হলে সরকারিভাবে খরচ হওয়ার কথা মাত্র ১ হাজার ১০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে এন ফি এবং এনএন ফি (নকল নবিশদের পারিশ্রমিক)। ১ হাজার টাকার জায়গায় কীভাবে ২২ হাজার টাকা চাওয়া হয়, আমি বুঝতে পারছি না।’
গতকাল রোববার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের বারান্দায় বসে একজন হিসাব রাখছেন কয়টি দলিল রেজিস্ট্রি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই হিসাব অনুযায়ী তাঁরা দলিল লেখক সমিতির সভাপতির কাছে ১ লাখ টাকার দলিল হলে ৩ হাজার ৫শ টাকা সভাপতি নুরুল ইসলামের নিকট জমা দিতে হয়। এবং দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর সভাপতি নিজেই টাকা জমা নিয়ে থাকেন। পরে সেই টাকা ভাগ করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলিক লেখকেরা সমিতিসহ (দলিক লেখক সমিতি) বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিতে হয় বলে দলিল প্রতি অতিরিক্ত টাকা নেন।
জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জীবননগর শাপলাকলিপাড়ার বাসিন্দা এক নারী বলেন, তিনি ৪ কাঠা জমি কিনেছেন ২ লাখ ৪ হাজার টাকায়। এ জন্য জমি রেজিস্ট্রি খরচ নেওয়া হয়েছে ২৪ হাজার টাকা। উথলী গ্রামের এক নারী জানান, তিনি ৮০ হাজার টাকায় ইউনিয়নে জমি কিনেছেন। তাঁর কাছ থেকে দলিল লেখকেরা খরচ বাবদ ৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। আরও টাকা নেবে কিনা এ বিষয়ে তিনি জানেন না।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। সমিতির একটি অংশ টাকা নুরুল ইসলাম স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতাদের মাঝে ভাগ করে দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সবাইকে ম্যানেজ করেই তিনি সমিতির কার্যক্রম চালাচ্ছেন। যেখানে ইউনিয়ন পর্যায়ে জমি সরকারিভাবে খরচ ১ লাখ টাকার দলিলে ৬ হাজার ৫ শ টাকা এবং পৌরসভার ১ লাখ টাকার দলিলে ৭ হাজার ৫ শ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও সমিতির সভাপতি বিভিন্ন নেতা-কর্মীর নাম করে ইউনিয়নের জমি লাখে ১১ থেকে ১২ হাজার এবং পৌরসভার দলিলে লাখে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জীবননগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় না। পৌর এলাকায় জমি রেজিস্ট্রির জন্য ১ লাখ টাকার দলিলের জন্য ৭ হাজার ৫ শ টাকা নেওয়া হয়। আর ইউনিয়নের জমি হলে লাখ প্রতি ৬ হাজার ৫ শ টাকা করে নেওয়া হয়। এর বাইরে আর কোনো টাকা নেওয়া হয় না।
অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জীবননগরের অতিরিক্ত সাব-রেজিস্ট্রিার এম নফিয বিন যামান বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকার নেওয়ার বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ অতিরিক্ত টাকা চাইলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি ব্যবস্থা নেব। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকার নির্ধারিত খরচের বাইরে কেউ অতিরিক্ত টাকা নিলে প্রমাণ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমেন্ট বক্স