মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের হুমকি!

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-০৪-২০২২ ইং
সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের হুমকি!

প্রতিবেদক, দামুড়হুদা:

দামুড়হুদার চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরিফা আক্তারের নিকট উপবৃত্তির টাকার হিসাব নেওয়ায় চাকরি খাওয়ার হুমকি দিলেন একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক রবিউল আওয়ালকে। এ মর্মে রবিউল আওয়াল বাদি হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরিফা আক্তারের বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাটি ঘটেছে ১৫ মার্চ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে চাকুলিয়া স্কুলেই। তবে ঘটনাটি গতকাল সোমবার জানাজানি হয়ে যায়।

জানা যায়, চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরিফা আক্তার যোগদান করার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অনিয়মের নানা অভিযোগ রয়েছে। তাকে ইতোপূর্বে বিভিন্ন কারণে চারবার শোকজ করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। তবে অজানা কারণে আরিফা আক্তারকে অন্যত্র বদলী বা বিভাগীয় শাস্তি হয়নি। স¤প্রতি চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রবিউল আউয়াল প্রধান শিক্ষক আরিফা আক্তারের বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্র থেকে  জানা যায়, গত ১৫ মার্চ আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরিফা আক্তারের সাথে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজের জন্য বরাদ্দের টাকা বিষয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি রেগে গিয়ে সহকারী শিক্ষক রবিউল আওয়ালকে চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি দেন। উপবৃত্তির হিসাবের কথা বলতে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, আপনি একটি ফকিরের বাচ্চা এবং যারা প্রকৃত ফকির তারা হিসাব  চাইতে আসে। এছাড়াও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয় পরিচালনা করে থাকেন। বিভিন্ন বরাদ্দের টাকার কাজ নিজেই করেন তিনি। হিসাবের কোনো বিল-ভাউচার স্কুলের বিল রেজিস্ট্রারসহ যাবতীয় রেজিস্ট্রার স্কুলে রাখেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সহকারী শিক্ষক রবিউল আওয়াল বলেন, ‘এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের চাকরি করা বা অবস্থান করা আমার জন্য অপমানজনক। বিদ্যালয়ে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং আমার যে অপমানজনক কথাবার্তা গালাগালি করা হয়েছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’

এবিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আরিফা আক্তরের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা জানায়, ‘হেড ম্যাডামের আচরণ খুবই খারাপ। ম্যাডাম অন্য স্যারদের সাথে স্কুলে ঝগড়া করেন। পড়াশুনার কোনো পরিবেশ নাই। আমরা এর সমাধান চাই।’

এবিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাকি ছালাম বলেন, ‘সহকারী শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য আগামী ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছি। তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি মাসুদ রহমান বলেন, ‘এবিষয়ে আমি শুনেছি, টিও ম্যাডাম ব্যবস্থা নিবে।’

তিনি আরো জানান, ‘২৬ মার্চের জন্য হেড ম্যাডাম মিটিং ডাকলো বেলা ২টার দিকে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। কিন্তু তিনি সব সহকারী শিক্ষকদের ছুটি দিয়েছিলেন। আমি প্রশ্ন করায় ম্যাডাম বললো- আমরা ঠিক করে নিবো।’

এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বক্তব্য নেয়ার জন্য তাকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী