জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেছে প্রতিপক্ষরা। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মাঝের পাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সাংবাদিক আকিমুল ইসলামের বাড়ির সামনে টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ।
জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সাংবাদিক আকিমুল ইসলামের বাড়ির সামনে টিন দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়। এসময় আকিমুল ইসলাম টিন দিয়ে বেড়া দেওয়ার কারণ জানতে চায়। এতে প্রতিপক্ষ উত্তেজিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ লাঠিসোটা নিয়ে তাকে মারধর করে।এতে উভায় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়। পুলিশকে খবর দিলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসে। এরপরে বিকেলে দর্শনা থেকে আসা কিশোর গ্যাঙের একটি গ্রুপ তাকে মারার জন্য মহড়া দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মনোহরপুর ইউনিয়নের আবাসন সংলগ্ন মাঝেরপাড়ায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৩৩ শতক জমি ৩ ভাইয়ের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। মৃত ওয়াজেদ হোসেন মল্লিকের ছেলে সাংবাদিক আকিমুল ইসলামসহ তার পরিবারের সদস্যরা ১১ শতক জমির ওপর বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। অপর শরীক মৃত আবদুস সাত্তারের দুই নাতি শাহজাহান (৩৩) ও সাগর (২৮), মাওলা বক্সর ছেলে রজিবুল (৩৭), রকিবুল (৩৫) এবং দর্শনা হল্ট চাঁদপুর গ্রামের ডাকুর পুত্র সবুজ (৩০) জোরপূর্বক সাংবাদিক আকিমুল ইসলাম (৪০), শহিদুল ইসলাম (৫৫) ও আমির হোসেনের (৫৮) পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১১ শতক জমি ভোগ দখল করতে গত শুক্রবার জোরপূর্বক টিনের বেড়া দিয়ে তাদেরকে ঘিরে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এসময় বাধা দিতে গেলে শাহজাহান, সাগর, রকিবুল ও সবুজ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায় এত সাংবাদিক আকিমুল,শহিদুল ও আমির হোসেন মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে আবারো তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দর্শনা থেকে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ভাড়া করে দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিক আকিমুল জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাড়ীর রাস্তা বন্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান। জমির সীমানা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে বসে মিমাংসা করার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।
এবিষয়ে জীবননগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার জমি সংক্রান্ত জের ধরে উভয়পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছন। বিষয়টি শোনামাত্র আমার ফোর্স পাঠিয়েছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসি। ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দ্বারা সাংবাদিক আকিমুল ইসলামের উপর হামলা খুবই দুঃখজনক। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন