আরিফ হাসান, হিজলগাড়ী:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ও তিতুদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রতিনিয়ত হচ্ছে বাল্যবিবাহ। স্কুলের গন্ডি পার হওয়ার সাথে সাথে কন্যাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য অধিকাংশ পরিবারের অভিভাবকের তোড়জোড় ভাবিয়ে তুলছে সচেতন মহলকে। প্রশাসনের নজরে আসলে হাতে গোনা দু-একটি বিয়ে বন্ধ হলেও কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না বাল্যবিবাহ। আইনের চোখ ফাঁকি দিতে বর-কনের অভিভাবকেরাও এগোচ্ছেন নতুন কৌশলে। তারা অধিকাংশ বিয়ে রেজিস্ট্রি না করে শুধু ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন করে রাখছেন। গত দুদিনে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীম ভূইয়ার হস্তক্ষেপে দুজন স্কুলছাত্রী বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেলেও গোপনে বিভিন্ন গ্রামে মাঝে মধ্যেই বাল্যবিয়ের আয়োজন হচ্ছে। তাই এখুনি বাল্যবিবাহ বন্ধে কাজিদের জবাবদিহীতার আওতায় এনে আরো কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ সচেতনমহলের। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুর ইউনিয়নের ঝাজরী গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকলে ৪টার দিকে একই গ্রামের ওহিদুল ইসলামের কন্যা স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রীর সাথে নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়নের আজগার আলীর ছেলের বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। এরই মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক স্কুলছাত্রীর বিয়ে হচ্ছে এমন খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদরের ইউএনও শামীম ভূইয়ার নিদের্শে বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন গ্রাম-পুলিশ বিয়ে বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেয়। এসময় তারা বিবাহের কুফল সম্পর্কে কন্যার পিতাকে বোঝালে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে মেয়ের বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেন। এর আগে একই ইউনিয়নে এক অপ্রাপ্ত বয়স্ক মাদ্রাসাছাত্রীর বিয়ে আটকান চুয়াডাঙ্গা সদরের ইউএনও।
সমীকরণ প্রতিবেদন