নিজস্ব প্রতিবেদক:
দামুড়হুদায় টিউবওয়েল চেপে পানি পান করার সময় মাথা ঘুরে পড়ে যেয়ে মরিয়ম খাতুন ঋতু (৮) নামের এ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা একটার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শিশু ঋতু মজলিশপুর গ্রামে চৌরাস্তার মোড় এলাকার হারুনুর রশিদের ছোট মেয়ে ও মজলিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
জানা যায়, গতকাল দুপুরে মেজ বোন কেয়ার সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলা করছিল ঋতু। এরই এক পর্যায়ে সে পানি খাওয়ার জন্য বাড়ির টিউবওয়েল থেকে পানি পান করতে যায়। টিউবওয়েল চাপতে গেলে মাথা ঘুরে সেখানেই পড়ে যায় সে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ঋতুর প্রতিবেশি ওয়াসিম আলী নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত হার্টের অসুখে ভুগছিল ঋতু। ঢাকা ও রাজশাহীতে নিয়েও তাকে চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। আজ (গতকাল) দুপুরে কলের পারে পানি খেতে গেলে মাথাঘুরে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানায়।’
ঋতুর চাচী নাজমা বেগম বলেন, ‘ঋতুর হার্টের অসুখ। ঋতুর মাসহ পরিবারের সবাই ওর অনেক খেয়াল রাখতো। আজ (গতকাল) সেলাই মেশিন মেরামত করার জন্য ঋতুর মা নারগিস বাজারে গিয়েছিল। এসময় দুপুরে বাড়িতে বোনের সঙ্গে খেলা করছিল ঋতু। এরই মধ্যে কলের পাড়ে পানি খেতে গেলে পড়ে যেয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। আমরা তখনই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু ডাক্তার বলেছে হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই সে মড়ে গেছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহানা আহমেদ বলেন, ‘দুপুরে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে জরুরি বিভাগে নেয়। পরিবারের সদস্যরা জানায় পানি পান করতে গেলে কলের পাড়ে পড়ে গিয়েছিল সে। তবে জরুরি বিভাগে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। শিশুটির নাকের ওপর সামান্য আচরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জরুরি বিভাগে নেওয়ার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘মেয়েটি দীর্ঘদিন হার্টের অসুখে ভুগছিল। এরই মধ্যে দুপুরে নিজ বাড়িতে খেলা করার এক পর্যায়ে শিশুটি টিউবওয়েল থেকে পানি পান করতে গেলে সেখানে পড়ে মাথায় যেয়ে আঘাৎপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের কোন অভিযোগ না থাকায় ও তাদের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে বিকেলে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন