মিঠুন মাহমুদ/এ আর ডাবলু:
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে আগামী ১৪ মার্চ ধার্য করা হয়েছে সম্মেলনের দিনক্ষণ। এদিকে, জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে, আলোচনা-সমালোচনা ততোই বাড়ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়ে চলছে নেতা-কর্মীদের আনাগোনা। পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার থেকে শুরু করে সর্বত্রই আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিকী সম্মেলনের আলোচনা-সমালোচনা। কে হচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী, আর কে হাসবে শেষ হাসি। কোন প্রার্থী কতটুকু যোগ্য, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ ও সমালোচনাও চলছে জীবননগর উপজেলার অলিতে-গলিতে চায়ের দোকানের মিনি টকশোতে।
আর কেন্দ্রীয়ভাবেই কী ঘোষণা করা হবে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম? না উপজেলাতেই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করা হবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ-সম্পাদকের নাম। নাকি গণতান্ত্রিক উপায়ে ডেলিগেট কাউন্সিলরের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এই নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শেষ নেই নেতা-কর্মীদের।
এেিক, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হতে পারবেন এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে নেতা-কর্মীদের মনে। তবে ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের দিনক্ষণ যতোই ঘনিয়ে আসছে, ততো প্রার্থীরা নেতাদের সমর্থন পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করছেন। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের মাঠে প্রচারণায় তাদেরকে খুব একটা দেখা না গেলেও অপেক্ষায় দিন-রাত কাটাছেন। রাতদিন নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে নিরব নিভৃতে চলছে কেন্দ্রীয় নেতাদের লিংক-লবিং।
আসন্ন জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রায় হাফ ডজন প্রার্থীর নাম আলোচনায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ভোটের রাজনীতিতে জীবননগরে বরাবরই বিএনপি জোটের আধিপত্য। তবে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগর টগর তিন তিনবার নির্বাচিত এমপি হওয়ার পরেই প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে এমনটিই মনে করেন নেতা-কর্মীরা। তবে আসন্ন আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের পোড়খাওয়া দুর্দিনের হাফ-ডজন প্রার্থী আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হতে চান বলে জানা গেছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী ইতঃমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি নেতাদের আস্থা অর্জনের সব রকম চেষ্টা করে চলেছেন। পিছিয়ে নেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকও। ত্রিবার্ষিকী সম্মেলনে হাফ ডজন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উপধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল, মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খাঁন সুরোদ্দীন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুস সালাম ঈশা।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, সম্মেলন ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সম্মেলন সফল করতে সকল প্রকার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. গোলাম মোর্তুজা জানান, দীর্ঘ ১৮ বছর পর জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৪ মার্চ জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন সফল করতে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে সকল প্রকার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন