মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ এনজিওর কিস্তি!

  • আপলোড তারিখঃ ০১-০৩-২০২২ ইং
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ এনজিওর কিস্তি!


কৃষি অফিসার তালহা জুবায়ের বললেন, চুয়াডাঙ্গা সদরেই ক্ষতিতে ৭২ কোটি টাকার ফসল


সমীকরণ প্রতিবেদন:
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গত রোববারের শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভুট্টা, গম, মসুর, তামাক, পেঁয়াজ, পান, আমের মুকুলসহ বিভিন্ন সবজির খেত। উঠতি ফসলের এমন ক্ষয়-ক্ষতিতে দিশাহারা কৃষক। রোববার বেলা ৩টা ১০মিনিট থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি পরবর্তীতে শিলাবৃষ্টিতে রুপ নেয়। যার তাণ্ডব চলে প্রায় ১৮ মিনিট। আর এই ১৮ মিনিটেই চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠের ফসলে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় সাড়ে ১৬ হাজার হেক্টর ও ঝিনাইদহে ৭১৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেহেরপুরে ক্ষতির পরিমাণ জানা সম্ভব হয়ণি। মেহেরপুর কৃষি অফিস ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে কাজ করছে।

``


চুয়াডাঙ্গা:
দফায় দফায় অকালের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চুয়াডাঙ্গার ফসলের মাঠ। উঠতি ফসলের সাথে আবহাওয়ার এমন বৈরি আচরণে লোকসানের মুখে চাষীরা। একদিকে লোকসান, অন্যদিকে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা, সবমিলিয়ে ফাল্গুনের এ সময়টা মোটেও ভালো কাটছে না কৃষকদের।
কয়েকজন কৃষক জানান, ঋণ নিয়ে বিঘা বিঘা জমিতে তাঁরা ভুট্টা, গম, তামাক, মসুরসহ বিভিন্ন ধরণের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু শিলাবৃষ্টি আর ঝড়ে খেতের সব ভুট্টাগাছ ভেঙে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জমিতে নতুন করে ভুট্টা চাষের কোনো সুযোগ নেই। এখন এনজিও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাই ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মাত্র ১৮ মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার মধ্যে এ জেলায় ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৪৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে। আর শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে ১৩ হাজার ২৫৩ হেক্টর জমির ফসল। এছাড়া গম ৯৯৫ হেক্টরের মধ্যে ক্ষতি হয়েছে ৫৫ হেক্টর, বোরো ধান ৩৬ হাজার ৮৭৯ হেক্টরের মধ্যে ১ হাজার ৪৭০ হেক্টর, কলা ১ হাজার ৫২৬ হেক্টরের মধ্যে ১৫৩ হেক্টর, পেঁপে ৫২০ হেক্টরের মধ্যে ৯৫ হেক্টর, পেঁয়াজ ১ হাজার ৬১৫ হেক্টরের মধ্যে ৩৫ হেক্টর, মসুর ৯১৭ হেক্টরের মধ্যে ২৩৪ হেক্টর, রসুন ২৬৬ হেক্টরের মধ্যে ২০ হেক্টর জমির ফসলে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। তাছাড়া পানবরজ ১ হাজার ৬২২ হেক্টরের মধ্যে ২৭৫ হেক্টর, তরমুজ ১১০ হেক্টর জমির মধ্যে ৭৫ হেক্টর, আম ২ হাজার ৪২৯ হেক্টর জমির মধ্যে ৪৩০ হেক্টর, পেয়ারা ১ হাজার ৭৪১ হেক্টর জমির মধ্যে ১৮৫ হেক্টর, লিচু ২৫৫ হেক্টর জমির মধ্যে ২০ হেক্টর, তামাক ৩২৭ হেক্টর জমির মধ্যে ৭৩ হেক্টর, ধনেপাতা ১৯০ হেক্টর জমির মধ্যে ৪০ হেক্টর ও শাকসবজি ৮ হাজার ৩৪২ হেক্টর জমির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮০ হেক্টর জমি। এছাড়াও কুল বা বরই, টমেটোসহ সবধরণের সবজির ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতার আশ^াস দিলেও এখনও এই ক্ষতির টাকা অঙ্কে কত হতে পারে, সে ব্যাপারে স্থানীয় কৃষি বিভাগ কোনো পরিসংখ্যান দিতে পারেনি।

``


চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার তালহা জুবায়ের মাসরুর নিউটন বলেন, ‘শিলাবৃষ্টির পর আমি ফসলের মাঠ পরিদর্শন করছি। জেলার মধ্যে সদর উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সব থেকে ভুট্টা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও তরমুজ, কুল, আমের মুকুলে ক্ষতি হয়েছে। তবে ধানের ক্ষতি তুলনামূলক কম। চুয়াডাঙ্গা সদরের পৌর এলাকার মাঠে, মোমিনপুর, পদ্মাবিলা, কুতুবপুর ও আলুকদিয়া ইউনিয়নের মাঠগুলোর জমির ফসলে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। যেটা টাকার অঙ্কে ৭২ কোটির মতো।’
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে। তবে ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করার কাজ চলছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আব্দুল মাজেদ বলেন, শিলাবৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর উপজেলার ৫টি ও দামুড়হুদা উপজেলার ১টি ইউনিয়নের মাঠে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার বেলা ৩টা ১০মিনিট থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি পরবর্তীতে শিলাবৃষ্টিতে রুপ নেয়। ওই দিনই চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক জানিয়েছিলেন, বিকেল ৩টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা পর্যন্ত ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এছাড়া একটানা ১৮ মিনিট ধরে শিলাবৃষ্টি হয়। এতে এক ইঞ্চি পরিমাণ শিলাবৃষ্টির সাথে মাটিতে নিপতিত হয়। ওই সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটারের বেশি।

``


মেহেরপুর:
প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টিতে মেহেরপুর জেলা সদর উপজেলার আমঝুপিতে ডাল ও তেল বীজ উৎপাদন খামারে মসুরি, মটরশুঁটি, খেসারি, সয়াবিন ও সূর্যমুখীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত রোববার দুপুরে এবং গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মেহেরপুরে প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টি হয়। বিশেষ করে রোববারে মুষলধারে শিলাবৃষ্টি হওয়ার কারণে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ডাল ও তেল ভিত্তি বীজ উৎপাদন খামারে মসুরি, মটরশুঁটি, খেসারি, সয়াবিন ও সূর্যমুখীর ব্যাপক ক্ষতি হয়।
চলতি মৌসুমে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ডাল ও তেল ভিত্তি বীজ উৎপাদন খামারে ১৩ একর জমিতে মসুরি, ৩ একর জমিতে মটরশুঁটি, ৫ একর জমিতে খেসারি, ৫ একর জমিতে সয়াবিন এবং সাড়ে ৫ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়। রোববারের প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টিতে ৮০-৯০ ভাগ বীজ সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সূর্যমুখী থেকে শুরু করে মসুরি, খেসারি, মটরশুঁটিরসহ অন্য ফসলগুলো মাটিতে নেতিয়ে পড়ে রয়েছে। আমঝুপি ডাল ও তেল ভিত্তি বীজ উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে নিরূপণ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ বীজ নষ্ট হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকি যে বীজগুলো উৎপাদন হবে, সেগুলো পূর্ণ শক্তি পাওয়া যাবে না বলে তিনি জানান।
ঝিনাইদহ:
গত রোববারের শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ঝিনাইদহ জেলা সদর, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে থাকা ৭১৬ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপ-পরিচালক মো. আজগর আলী জানান। তিনি বলেন, ধানের তেমন ক্ষতি না হলেও অন্যান্য রবি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মাঠ পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপনের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
এদিকে কৃষকেরা জানান, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে গম, মসুর, ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসল মাটির সাথে মিশে গেছে। তাছাড়া লিচু ও আমের মুকুল ঝরে গেছে। ক্ষতি হয়েছে শাক-সবজিরও।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী