মিঠুন মাহমুদ:
জীবননগরে গমখেতে ব্লাস্ট নামক ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের মাঠে কৃষক আক্কাচ আলী মণ্ডলের এক বিঘা জমির গমে এই ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ চিহ্নিত হয়। এ রোগ প্রতিরোধ করার জন্য ওষুধ ব্যবহার করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না উপজেলার কৃষকেরা। এবারও গমে বড় ধরণের লোকসান হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। তাই গতবারের মতো এ বছরও গম কেটে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চাষিরা।
ব্লাস্ট আক্রান্ত স্থানে গমের শীষে ছত্রাকের (পোকা) আক্রমণে সাদা হয়ে যাচ্ছে। গমের শীষের দানা অপুষ্ট ও কুঁচকে যাচ্ছে এবং দানা ধূসর বর্ণের ছোট-ছোট দাগ দেখা যাচ্ছে। এ রোগ প্রতিরোধ করার কোনো উপায় নেই। কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর থেকে এই রোগে আক্রান্ত হওয়া গমের বিভিন্ন ধরণের কীটনাশক কোম্পানির ওষুধ স্প্রে করার জন্য পরামর্শ প্রদান করছে।
কৃষক আক্কাচ আলী মণ্ডল বলেন, তাঁর জমির গমে এবার ব্লাস্ট রোগ ধরা পড়েছে। গমের মাঝ নষ্ট হয়ে গেছে, গাছে কোনো ফল নেই। কৃষি অফিসের পরামর্শে গমে ব্লাস্ট রোগের প্রতিরোধ হিসেবে নাটিভো স্প্রে করা হচ্ছে। তবুও তাতে কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা যায়, গম বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময়ী ফসল। গমের ব্লাস্ট একটি ক্ষতিকর ছত্রাকজনিত রোগ। গমের শীষ বের হওয়া থেকে ফুল ফোটার সময়ে তুলনামূলক গরম ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া থাকলে এ রোগের আক্রমণ ঘটে। এটি চাষাবাদে পানির চাহিদা কম হওয়াতে এবং ধানের আবাদ অলাভজনক হয়ে পড়ায় গমের আবাদে কৃষকরা দিন দিন আগ্রহী হচ্ছেন। আর ঠিক সেই সময়, সর্বনাশা ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ, গম চাষে একটি বড় ধরণের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, গম বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময়ী ফসল। এটি চাষাবাদে পানির চাহিদা কম হওয়াতে এবং ধানের আবাদ অলাভজনক হওয়ায় গমের আবাদে কৃষকরা দিন দিন আগ্রহী হচ্ছেন। জীবননগর উপজেলায় ৩০৯ হেক্টর জমিতে গমের চাষ হচ্ছে। তবে যেসব এলাকার গমে ব্লাস্ট রোগ ধরা পড়েছে, সে সব এলাকায় আমাদের কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন