সমীকরণ প্রতিবেদক:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তের হার কমে ১৮ শতাংশে নেমেছে। করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গত ২৮ জানুয়ারি দেশে সর্বোচ্চ ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ ছিল দৈনিক শনাক্তের হার। তারপর থেকে দেশে টানা ২০ শতাংশের উপরে থাকলেও গতকাল বুধবার তা কমে ১৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে নেমেছে। গতকাল দেশে নতুন করে মৃত্যু হয়েছে আরো ৩৩ জনের। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে কারো মৃত্যু নাহলেও নতুন করে আরো ২১ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এসময় মেহেরপুরেও নতুন করে ২৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ২১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত করোনা আপডেটে এ তথ্য নিশ্চিত করে। নতুন আক্রান্ত ২১ জনসহ জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৬৭০ জন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার ২২৫টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ২১টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ২০৪টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত থেকে নতুন ১৫জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৯০৯ জন। জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ২১৯ জন। এর মধ্যে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৮৯ জন ও জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে আরো বিশজনের।
এদিকে, গতকাল পর্যন্ত চুুয়াডাঙ্গা জেলায় করোনা প্রতিরোধক টিকার সর্বমোট প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ৮ লাখ ৮৬ হাজার ২, দ্বিতীয় ডোজ ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৮ এবং তৃতীয় বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন ১৫ হাজার ৩৪৯ জন।
মেহেরপুরে:
মেহেরপুরে নতুন করে ২৩জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১৪ জন এবং গাংনী উপজেলার ৯ জন রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য জানায়। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার ৬৫টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ২৩ জনের নমুনার ফলাফল পজেটিভ আসে। নতুন ২৩ জনসহ বর্তমানে মেহেরপুরে ২৭৫ জন রোগী করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। তার মধ্যে সদর উপজেলার ১৩২ জন, গাংনী উপজেলার ১০৭ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৩৬ জন রয়েছে।
সারা দেশ:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কিছুটা কমে ৩৩ জনে নেমে এসেছে। এসময় শনাক্তের হার কমে ১৮ শতাংশে নেমেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ১৬ জনের দেহে। এই সময়ে ৮৭১টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪২ হাজার ৫৬৪টি। করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গত ২৮ জানুয়ারি দেশে সর্বোচ্চ ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ ছিল দৈনিক শনাক্তের হার। তারপর থেকে দেশে টানা ২০ শতাংশের উপরে থাকলেও গতকাল তা কমে ১৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে নেমেছে। এখন পর্যন্ত দেশে মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৮ লাখ ৮৭ হাজার ২৭১ জনের। গত কিছু দিন ধরে মৃত্যুও বেড়েছে। এমনকি এক সপ্তাহ পর গত রোববার মৃত্যু ৩০-এর নিচে নামে। এর পরের দিন সোমবার ৩৮ জনের মৃত্যু হয়। গতকাল মঙ্গলবার এটি আরও বেড়ে ৪৩ জনে দাঁড়ায়। তবে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কিছুটা কমে ৩৩ জনে নেমে এসেছে। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে শনাক্ত ও শনাক্তের হার দ্রুত বাড়লেও মৃত্যু অনেকটা কম ছিল। গত বছর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর দৈনিক মৃত্যু ছাড়িয়ে যায় ২৬৪ জনে। তবে এবার শনাক্তের হার সর্বোচ্চ হলেও মৃত্যু অনেক কম। করোনায় দেশে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭০৩ জনে। গত এক দিনে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ২৪ ও নারী ৯ জন। এর মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১, চল্লিশোর্ধ্ব ৬, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৬, ষাটোর্ধ্ব ১০, সত্তরোর্ধ্ব ৭ ও অশীতিপর ৩ জন। বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ জনের মৃত্যু হয় ঢাকা বিভাগে। এরপরই চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৪ জন, খুলনা, সিলেট ও ময়মনসিংহে ২ জন করে মারা গেছে। আর বরিশাল ও রংপুরে মারা গেছেন একজন করে। করোনা সংক্রমণের ৬১ শতাংশই ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৯২৮টি।
সমীকরণ প্রতিবেদন