মিঠুন মাহমুদ:
জীবননগর উপজেলায় প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল যব বা বার্লি চাষ। যুগের পরিবর্তে আবারো নতুনভাবে শুরু হচ্ছে যব বা বার্লি চাষ। কারণ এটি একটি উচ্চমূল্যের ফসল। এটি চাষ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব বলেও মনে করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
বোরো ধান, গম, ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের চাষ বিস্তার পাওয়ার ফলে বার্লির আবাদ একবারেই নেই বললেই চলে। কিন্তু গ্রামীণ এলাকাতে ছাতু হিসেবে বার্লি খাওয়ার প্রচলন অনেক আগে থেকেই রয়েছে। শিশুখাদ্য হিসেবে রবিনসন, ওভালটিন, হরলিকস, হ্যামিলটন ও আলবার্টা বার্লির মূল উপাদান বার্লি বা যব। বার্লি একটি পুষ্টিকর খাদ্যও। এর মধ্যে রয়েছে ৬১.৮ শতাংশ শর্করা, ১৩.১ শতাংশ আমিষ, অদ্রব্যনীয় আঁশ ৮.৮৫ শতাংশ, আর্দ্রতা ৭.৫৫ শতাংশ, দ্রব্যনীয় আঁশ ৮.৮৫ শতাংশ, পেনটোসান ৪.২৮ শতাংশ, লিপিড ২.৯২ শতাংশ, ছাই ১.৮৯ শতাংশ ও অন্যান্য উপাদন ৪.২৬ শতাংশ। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর জন্য বার্লি একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ পণ্য। বার্লির মধ্যে পানিতে দ্রব্যনীয় আঁশ ও করোনেল রয়েছে। এসব উপাদান রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। বিভিন্ন খাদ্যশিল্পে বার্লির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কপোরেশন (বিএডিসি) পাথিলা বীজ উৎপাদন খামার উদ্যোগ নিয়ে খামারের ৩৩ শতাংশ নিজস্ব জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে যব বা বার্লির চাষ শুরু করেছে। যা এলাকার সাধারণ কৃষকের মধ্যে অনেকটাই সাড়া ফেলেছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে সাতটি বার্লির জাত (বারি বার্লি-১ থেকে বারি বার্লি-৭) ছাড় করা হয়েছে। এবং ছাড় করা মধ্যে থেকে জীবননগর উপজেলার পাথিলা বীজ উৎপাদন খামারে পরীক্ষামূলকভাবে বারি বার্লি-১ এর বীজ রোপন করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, পাথিলা বীজ উৎপাদন খামার সবসময় বিভিন্ন ধরনের বীজ উৎপাদন করে থাকে। এর আগে কালার ধানের বীজ তৈরি করেছিল। এবার আবার যবের বীজ তৈরি করছে। যব অনেক বছর আগে আমাদের এলাকার মাঠে চাষ হতো। পরে এই চাষটি মাঠ থেকে বিলিনের পর্যায়ে গেলে পাথিলা বীজ উৎপাদন খামার এই চাষটি আবার শুরু করেছে।
পাথিলা বীজ উৎপাদন খামারের উপসহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘যব বা বার্লি গাছ খুব অল্প সময়ের মধ্যে বেড়ে উঠছে। এই চাষের জন্য বিঘা প্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২০ কেজি টি এসপি, ২৫কেজি এমওপি, ২০কেজি জিম সার ব্যবহার করতে হবে। আর লাগানোর থেকে শেষ পযন্ত তিনটি সেচের ব্যবস্তা করলেই ফসল উঠে পড়বে। এই যব চাষে অন্যান্য চাষের তুলনায় খরচও কম। কৃষকরা যদি উদ্যোগ নিয়ে এই চাষটা করে তাহলে লাভবান হবেন।’
পাথিলা বীজ উৎপাদন খামারের উপপরিচালক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘যব বা বার্লি এটি অত্যাধিক পুষ্ঠিকর খাদ্য। গ্রামের মানুষেরা আগে বেশির ভাগ সময় ছাতু তৈরি করে খেত। আর এই বার্লি চাষে খরচ অনেক কম। এটি লাগানোর ১১০ থেকে ১২০দিনের মধ্যে ফসল পাওয়া যায়। যব বা বার্লি গাছ দেখতে অনেকটা গমের মতো। অন্যানা চাষের মতো অতিরিক্ত সেচ দিতে হয় না, খুবই স্বল্প পানিতে এই বার্লি চাষ করা সম্ভব। এটা অনেকটা বিলিন হওয়ার পথে, সে কারণে পরীক্ষামূলকভাবে যব বা বার্লি চাষ পাথিলা বীজ উৎপাদন খামারের উদ্যোগে শুরু করা হয়েছে। বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব। তাই সরকার কৃষির উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। এটিও সেই উদ্যোগের একটি।’
সমীকরণ প্রতিবেদন